জঙ্গিবাদ ও মাদকে সর্বনাশা আসক্তি

48

আরিফুজ্জামান তুহিন

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা এস এম ইমতিয়াজ খান বাবুলের ছেলে রোহান ইমতিয়াজ বাড়ি ছেড়েছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। ছয় মাস পার হলেও তার কোনো হদিস বের করতে পারেনি পরিবার। ছেলেকে খুঁজে পেতে মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেছিলেন বাবা। পুলিশ-র‌্যাবের কাছেও ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত রোহানকে পাওয়া গেল গত শনিবার। জানা গেল, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের একজন ছিল সে।

একই রকম পরিণতি হয়েছে মীর হায়াত কবিরের ছেলে মীর সামিহ মোবাশ্বেরের ক্ষেত্রেও। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল সে। গুলশান থানায় জিডি করেছিলেন বাবা। ছেলের খোঁজ পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও শরণাপন্ন হয়েছেন। কোথাও মোবাশ্বেরকে পাওয়া যায়নি। শনিবার জানা গেল, রোহানের সঙ্গে মোবাশ্বেরও আর্টিজান বেকারিতে হামলায় অংশ নিয়েছে।

রোহান ও মোবাশ্বেরের মতো অনেক তরুণ আজ বিপথে পা বাড়াচ্ছে। তাদের কেউ নাম লেখাচ্ছে উগ্রবাদে, কেউ বা হাতে তুলে নিচ্ছে মাদক।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা তরুণ রিয়াজকে নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় তার মা রাহেলা বেগম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এই গৃহিণী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে রিয়াজ।

মাদক ওর সব শেষ করে দিয়েছে। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ও যে কী করে এই পথে গেল আমরা টেরই পাইনি। এখন নেশা উঠলেই বাসার সব কিছু ভেঙে ফেলে।’

২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগের বাসায় বাবা এসবির পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমানকে সস্ত্রীক হত্যা করে তাঁদেরই ‘ও’ লেভেলপড়ুয়া মেয়ে ঐশী রহমান। ঐশী এখন জেলহাজতে। আর তার আট বছরের ছোট ভাইটি বেড়ে উঠছে এক অসীম শূন্যতায়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐশী ইয়াবায় আসক্ত ছিল। মা-বাবার আদরে বেড়ে ওঠা ওই কিশোরী মাদকের প্রভাবেই ভয়ংকর খুনিতে পরিণত হয়। এভাবে মাদকের আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে ভয়ংকর অপরাধী করে তুলছে।

২০১২ সালের ১৪ মার্চ রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিশিষ্ট অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের বড় ছেলে এ টি এম কামরুজ্জামানকে খুন করেন তাঁর ছোট ভাই এ টি এম খালেকুজ্জামান। খালেকুজ্জামানও মাদকাসক্ত ছিলেন। ২০১১ সালের অক্টোবরে পুরান ঢাকার নরেন্দ্রনাথ বসাক লেনে মাদকাসক্ত সন্তান জাহিদুল ইসলাম খুন করে তার বাবা মনসুর আলীকে। এরপর ব্যবসায়ী মনসুর আলীর লাশ তাঁর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাটির নিচে পুঁতে রাখে জাহিদুল।

গুলশান হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আয়োজিত স্মরণসভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘ড্রাগ যেমন একটা সময় তরুণসমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত, আজ তেমনিভাবে জঙ্গিবাদও তরুণদের নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই সমাজের সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, কখনো যদি জঙ্গিবাদসংশ্লিষ্ট কিছু আপনাদের কাছে দৃশ্যমান হয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে পুলিশকে জানান।’

পরিবারের অলক্ষে বিপথগামী তরুণ-তরুণীরা একদিকে যেমন উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ছে, তেমনি মাদকের ভয়াল ছোবলে নীল হয়ে যাচ্ছে তাদের সোনালি জীবন। তাই উগ্রবাদ ও মাদকের ছোবল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবারকেই সবার আগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিঃসঙ্গতা ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণেই জঙ্গিবাদ ও মাদকের পথে পা বাড়াচ্ছে তরুণ-তরুণীরা।

এ বিষয়ে মনোচিকিৎসক ডা. মোহিত কামাল বলেছেন, একটি সন্তান হুট করে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠে না। এর পেছনে তার বন্ধু-বান্ধব বড় ভূমিকা পালন করে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তরুণ-তরুণীরা শুধু বিপথেই যাচ্ছে না, নৃশংস সব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মা-বাবাকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানের ভেতরে আত্মসম্মান বোধ জাগাতে হবে। আশাবাদী করে গড়ে তুলতে হবে।

জানা যায়, ১৮ থেকে ২৫ বছরের এসব তরুণ বিপথগামী হচ্ছে পরিবারের অগোচরে। একবার সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে আর তাদের ফেরানো যাচ্ছে না। সমাজবিজ্ঞানী, মানসিক স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানরা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, তাদের ওপর নজর রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে খোলা মনে মিশতে হবে। তাদের ব্যবহারে কোনো অসংগতি ধরা পড়লে তাদের খোলামেলাভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, নৈরাজ্য চলছে, তা তরুণ-তরুণীদের অন্যায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রেরণা জোগায়। কিন্তু যুদ্ধ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই যে সন্ত্রাসবাদের পথ নয়—সেই শিক্ষা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও  রাষ্ট্র থেকে দিতে হবে। সন্তান ও মা-বাবার মধ্যে ফারাক কমানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

দিতে হবে বিশেষ নজর : সন্তান কিশোর বয়স পার করার সময়ই মা-বাবার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্বের কারণে যেকোনো সময় বিপথগামী হয়ে যেতে পারে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা-বাবাকে এ সময়টিতে অবশ্যই সন্তানের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। সে কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, তার চরিত্রে ও চলাফেরার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সে অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে কি না—এসব লক্ষ রাখতে হবে। সন্তান যদি হুট করে চুপচাপও হয়ে যায় তাহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে। এ রকম কোনো বিষয় চোখে পড়লে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করতে হবে। সন্তানকে বেশি বেশি করে সময় দিতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সন্তানদের ওপর ইতিবাচক অর্থেই নজর রাখতে হবে। কোনো রকম পরিবর্তন লক্ষ করলেই তাকে খোলা মনে প্রশ্ন করে জেনে নিতে হবে এর কারণ কী?

পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বহু ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সারা পৃথিবীতে দ্বাদশ  পর্যন্ত একই ধারার শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। এরপর যদি কেউ উচ্চশিক্ষা নিতে চায় তবে তার যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে সেই ধরনের শিক্ষা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বহু ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণ জনগণ বাংলা মাধ্যমে পড়ে, নিম্নবিত্ত দরিদ্র মানুষ পড়ে মাদ্রাসায়, ধনী ঘরের সন্তানরা পড়ে ইংরেজি মাধ্যমে। এসব মাধ্যমে আবার বহু ধরনের ভাগে বিভক্ত। একমাত্র বাংলা মাধ্যম ছাড়া আর প্রতিটি মাধ্যমে যে ধরনের পড়াশোনা করানো হয় তার সঙ্গে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলোর খুব মিল নেই। সম্প্রতি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলাদেশ অধ্যয়ন নামের একটি কোর্স চালু করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

এর  ফলে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়া তরুণরা তুলনামূলক বেশি বিপথগামী হচ্ছে।  শিক্ষাবিদরা বলছেন, সারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি একক মাধ্যমে আনতে না পারলেও দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতির বিষয়গুলো বেশি বেশি করে পাঠ্যক্রমে থাকা উচিত।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় পাঠ্যক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, ‘স্কলাসটিকা, নর্থ সাউথের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে তরুণরা বিপথে যাচ্ছে তারা বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কিছুই জানে না। এমনকি বাংলাদেশে কিভাবে ইসলাম এসেছে সে সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে আমাদের পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, যেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, ‘যে ছেলেরা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তাদের দিনদুনিয়া সম্পর্কে সাধারণ ধারণাও নেই। ইসলাম, পৃথিবীর বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে এদের ন্যূনতম ধারণাও নেই। এ রকম দুর্বল জানাশোনার তরুণদেরই জঙ্গিরা টার্গেট করে। আমাকে বা আপনাকে, যারা পারিবারিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে ধর্ম, রাষ্ট্র ও পৃথিবী সম্পর্কে জেনেছে, তাদের থেকে জঙ্গিরা দূরে থাকে।’

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে মা-বাবাকে। ড. মেহজাবীন হক বলেন, আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায় পশ্চিমারা অন্যায় করছে। কিন্তু এভাবে জিম্মি করে মানুষ মেরে সেই অন্যায়ের সুরাহা করা যাবে না। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বরং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি কোনো তরুণ সত্যিই লড়তে চান তাহলে অন্যায় যুদ্ধগুলোর কারণ তাঁকে আগে জানতে হবে। এটি কোনো ধর্মীয় যুদ্ধ নয়। এটি অর্থনৈতিক ব্যাপার।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মেহজাবীন বলেন,  ‘উচ্চবিত্তের যে ধরনের পরিবার থেকে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে ওই পরিবারগুলো ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান রাখে না বলেই আমার মত। পরিবার থেকে যদি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে একটি ভালো জ্ঞান দেওয়া যায় তাহলে ওই সন্তান কখনোই জঙ্গিবাদের দিকে যাবে না। কারণ আইএসের মতো জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো কখনোই ইসলামী জ্ঞানে আলোকিত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে না। বরং যে ইসলাম সম্পর্কে কম জানে তাকেই ইসলামের এই ধরনের জিহাদি ব্যাখ্যা দিয়ে দলে টানা সম্ভব হয়।’

লক্ষ রাখতে হবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর : গুলশানে হামলাকারীদের একজন নিবরাস ইসলাম উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের খবরগুলো নিয়মিত পেতেন তিনি। তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, নিবরাস টুইটারে ব্রিটিশ নাগরিক আনজেম চৌধুরীকে ফলো করতেন। আনজেম চৌধুরী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সমর্থক। সশস্ত্র জিহাদের পক্ষে তিনি বক্তৃতা-বিবৃতি ও লেখালেখি করে থাকেন। আইএসের পক্ষে কথা বলার দায়ে তিনি বর্তমানে ব্রিটেনে বিচার মুখোমুখি হয়েছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় মোবাইল ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ-কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজেই সারা পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে তরুণ-তরুণীরা। কিন্তু তারা ফেসবুক, টুইটারে কী যোগাযোগ করছে তা পরিবারের লোকরা খুব কমই জানেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান যদি ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সক্রিয় থাকে তাহলে বাবা-মাও সন্তানের ওই সব মাধ্যমে যুক্ত থাকুন। এতে সন্তান ফেসবুক টুইটারে কী লিখছে, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, কার লেখা লাইক বা শেয়ার করছে তা জানা যাবে। কোনো রকম উগ্রবাদী লেখা শেয়ার ও লাইক দিলে সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা উচিত।

এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ ও প্রিয় ডট কমের সম্পাদক জাকারিয়া স্বপন বলেন, দেশে গত দশ বছরে প্রচুর ধনী মানুষ তৈরি হয়েছে। তারা সন্তানদের দামি দামি সব ট্যাব, ফোনসহ নানা কিছু কিনে দিচ্ছে। এখন সেই সব মাধ্যম দিয়ে সন্তানরা কি করছে তা কিন্তু বাবা-মা জানেন না। শুধু মা-বাবা নয়, এই প্রজন্মের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এমনকি রাষ্ট্রেরই বড় গ্যাপ রয়েছে। এই ফারাক কমাতে হবে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই বিশাল তরুণ গোষ্ঠীকে সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম খান বলেন, “বিপথগামী তরুণদের মোটা দাগে শত্রু হিসেবে গণ্য করলে সমস্যার সমাধান করতে পারব না। বরং আমাদের ধৈর্যের সঙ্গে শোনা দরকার তারা ইসলামের এত ব্যাখ্যা থাকতে শুধু ‘বিশেষ ইসলামী’ ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে খুন করতে কেন উদ্যত হচ্ছে। তারা কী চায় এটা আমাদের জানা দরকার। কারণ তাদের চিন্তায় যে ভুল রয়েছে তখন আমরা সেগুলো ধরিয়ে দিতে পারব।” কালের কণ্ঠ’