‘ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা তরুণদের দানবে পরিণত করেছে’

47

বিলেতবাংলা ডেস্ক,৪ জুলাই:  গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনাকে ‘ধর্মের নামে চরম অধার্মিকতা’ বলেছেন ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় শহীদ মিনারে ‘আর নয় মৃত্যুর মিছিল, ধর্মের অপমান/ হাতে হাতে কোটি মানুষ শপথে বলিয়ান’ শিরোনামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

কর্মসূচিতে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করে তাদের শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

হত্যাকাণ্ডের শোক প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, “আজ ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যায় তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তারা দানবে পরিণত হচ্ছে, যার চরম অমানবিক নৃশংস রূপটি আমরা দেখলাম গুলশান হত্যাকাণ্ডে।

“সমাজ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ নির্মূল করতে সংস্কৃতি শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিপুলভাবে জোরদার করতে হবে।  তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিদের হামলায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য রচনার শপথ আমরা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করছি।”

জঙ্গি আদর্শের প্রচার ও সংগঠনের কেন্দ্র, তাদের অর্থ জোগানোর নেটওয়ার্ক ও দেশি-বিদেশি মদদদাতাদের দ্রুত খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়ে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ প্রতিরোধ চেতনায় সংস্কৃতিকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা ‘সম্প্রীতি ও ঐক্যের বাংলাদেশ’ গড়ে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।

শুক্রবার রাতে কূটনৈতিকপাড়ার ওই ক্যাফেতে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হানা দিয়ে বিদেশিসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে। এছাড়া জঙ্গিদের ঠেকাতে গিয়ে তাদের ছোড়া বিস্ফোরকের স্প্লিন্টারে মারা যান আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় হামলার রাতেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এলেও দেশে আইএস থাকার কথা অস্বীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, “প্রিয় নগরী আজ বর্বর জঙ্গিবাদী হত্যাকাণ্ডে নিহতদের রক্তে নিমজ্জিত। মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী দেশের প্রতিটি নাগরিক আজ শোকাতুর।

হত্যাকাণ্ডে ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’ মামুনুর রশীদ বলেন, “বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার সত্যি জানা নেই।

“গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে আমাদের লড়াই চলবেই। এ দেশকে আমরা কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক দেশ হতে দেব না।”

বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

“এবার এই জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন যারা আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, যারা আমাদের দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

“ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

পরে সংগীতশিল্পী বুলবুল ইসলামের ‘আগুনের পরশমণি’ গানটির সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেন সমাবেশে আগত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এই প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।