বিলেতের সাংবাদিকতার শতবর্ষ

130

হামিদ মোহাম্মদ ।।

 

বিলেতের সাংবাদিকতার শতবর্ষ পূর্ণ হতে আর মাত্র ক মাস বাকী। ১৯১৬ সালে মাসিক সত্যবাণী প্রকাশনার মধ্য দিয়ে এ ইতিহাসের শুরু। অনেকে এ শতবর্ষকে ঘটা করে পালন বা উদযাপন করার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন বা উদযাপন করবেন। কিন্তু এ শত বছরে বিলেতের  বাঙালিরা কী পেয়েছেন, বা কী পাননি। এসব প্রশ্ন উদয় হওয়া স্বাভাবিক। আর এ ভাবনা থেকেই আলোচনার সুত্রপাত।এদিকে বিলেতের সাংবাদিকতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে সম্প্রতি বিভিন্ন আলোচনা। ক্ষীণ পরিসরে হলেও নানান  মন্তব্যে উঠে এসেছে বিলেতের সাংবাদিতকার মানের বিষয়টি। এতে  বিশদ আলোচনার প্রয়োজন উঁকি দেয়া স্বাভাবিক।  প্রশ্ন হলো, বিলেতে সাংবাদিকতাকে কি কেউ লালন করছেন সংবাদপত্র সেবার উদ্দেশে, না এসব সংবাদপত্র জীবিত আছে  গালভরা বুলির ভেতর? না শুধুই বাগাড়ম্বর হচেছ?

যদি বলি-বাগাড়ম্বর হচেছ! বিশদ আলোচনা ছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে হয়তো কেউ মুখ খুলবেন না বা খুলতে আগ্রহী নন। অথবা একে পাশ কাটিয়ে যাবেন কৌশলে। কেননা, কেউ না কেউ এ পেশাকে বা সংবাদপত্র প্রকাশকে ভিন্নভাবে  ভাবছে বা ভাবতে  অভ্যস্ত।অন্যভাবে বললে, কোনো  অপবাদে যদি পাঠক সংবাদপত্র সেবকদের  অভিযুক্ত করে, দোষ দিবো কিভাবে? অথবা প্রকাশকদের এর অন্তরালে অন্য মনোভাব রয়েছে কি না, তা তো জানা নেই। যার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচেছ মূল মাধ্যমটি। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও একই কাতারে  ভাবা ছাড়া তা আলাদা কোন নতুনত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি। অবশ্য, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া নিয়ে ভিন্ন আলোচনা প্রযোজ্য হবে। আজকের আলোচনায় প্রিণ্ট মিডিয়া নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তবে আলোচনা শুরুর প্রারম্ভে বিলেতের সংবাদপত্রের প্রকাশনা ও এর সামান্য চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক সিলেটের সন্তান বিপিন চন্দ্র পাল বিলেতে থাকাকালীন ১৯০৮ সালে ইংরেজী ভাষায়-স্বরাজ-  ও ১৯১৬ সালের ১লা নভেম্বর  সত্যবাণী বাংলা ও ইংরেজী  দ্বিভাষিক পাক্ষিক  সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। তাঁর পুত্র নিরঞ্জন পালের  প্রকাশনায় দীর্ঘদিন এ সংবাদপত্র টিকেছিল। ১৯১৬ সালকেই বিলেতের সংবাদপত্রজগতের সূচনাকাল বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটাই সত্য। এরপর প্রথম সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের ১৮ অক্টোবর। পত্রিকাটির নাম জগতবার্ত্তা। এই পথ ধরে রাজনীতিক ও সমাজ সংস্কারক তাসাদ্দুক আহমদ বের করেন  ১৯৫৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দেশের ডাক। কিছু দিন পর সাংবাদিক আবুল হায়াতের সম্পাদনায় বের হয় ত্রিভাষিক বাংলা, উর্দু ও ইংরেজি আমার দেশ। পর্যায়ক্রমে বের হয় ত্রৈমাসিক দেশ-বিদেশ, মাসিক সংবাদ, মাসিক মুসলিম, মাসিক চলার পথে, মাসিক পূর্ববাংলা, মাসিক বৈদেশিক সংবাদম ত্রৈমাসিক দর্পন, মাসিক শিখা, সাপ্তাহিক জাগরণ, মাসিক মশাল। ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক জনমত। ৬৯ থেতে ৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদ সাময়িকী প্রকাশিত হয়।  মাসিক দিশারী, মাসিক পদ্মা, মাসিক রেস্তোরা, দ্বিমাসিক সাগর পারে, বিদ্রোহী বাংলা, সাপ্তাহিক জয়বাংলা, স্বাধীন বাংলা, রণাঙ্গন, বাংলার কথা, সাপ্তাহিক মুক্তি, জয়বাংলা (লন্ডন), পাক্ষিক গণযুদ্ধ, সাপ্তাহিক জন্মভূমি, সাপ্তাহিক প্রলয়, সাপ্তাহিক বাংলা দেশ, বাংলাদেশ সংবাদ ও মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি পত্রপত্রিকা। এই ধারাবহিকতায় ২০০১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও আটষট্টি খানা পত্রপত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাপ্তাহিক সুরমা, দৈনিক বাংলা,  সাপ্তাহিক দেশবার্তা, সাপ্তাহিক জাগরণ, সাপ্তাহিক নতুন দিন, সাপ্তাহিক বজ্রকণ্ঠ,সিলেটের ডাক, মাসিক মিলেনিয়াম, মাসিক দর্পন, সাপ্তাহিক ইউরো-বাংলা ও সাপ্তাহিক পত্রিকা (ব্রডসিট) প্রভৃতি। তবে সাহিত্য সাময়িকীর প্রকাশনা রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। সাহিত্য সাময়িকীর জন্য ভিন্ন আলোচনা প্রয়োজন। শুধু সংবাদপত্র নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলে মূল বিষয়টি প্রচ্ছন্ন থাকবে।  আলোচনায় আমরা পাই,সংবাদপত্র প্রকাশের শুরু থেকেই ভারতীয় বা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও বাঙালিদের বাংলাদেশে এবং বিলেতের সংগ্রামশীল জীবন ও সমাজ এবং টিকে থাকার লড়াইকে বিকশিত করতে মুখর প্রত্যকটি প্রকাশনা। এসব দুর্মর চিন্তাচেতনাকে লালন করেই সংবাদপত্রের অগ্রযাত্রা।

কিন্তু দীর্ঘদিনের এ  অভিযাত্রায় বাংলা সংবাদপত্র উতকর্ষ সাধন করতে পারেনি। বা উতকর্ষ সাধন করার চিন্তা করা হয়নি। তাই  বিভিন্ন  মতবিনিময় সভায় ও বৈঠকী আড্ডায় লন্ডনের সাংবাদিকতার মান নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রতি সাংবাদিকদের মনোযোগী হতে অনেকেই বলে থাকেন। এই সচেতনতার কথা নতুন করে বলা বা ভাবার বিষয় নয়। কিন্তু ভাবতে গিয়ে কেউ-ই ভাবছেন না- এটা-ই বিষয়।

সংবাদপত্র নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমেই স্থানীয় সংবাদ বিষয়ে আলোকপাত করা যাক-যা পত্রিকাগুলোর মূল প্রাণশক্তি। আমরা দেখছি- এখানে যে কেউ একটি অনুষ্ঠানের প্রেস রিলিজ তৈরি করে সব পত্রিকায় বিলি করে দেন ই-মেইলে। আর তাতে একশ একটা নাম থাকে এবং ফটো-সেশনের বড় একটা ছবি- যারা বক্তৃতা দিলেন এমনকি উপস্থিত ছিলেন অমুক ভাই-তমুকভাই ইতাদি। নাম না ছাপলে জেনে ফেলেন নাম ছাপা হয়নি। তারপর ফোন আসে পত্রিকা অফিসে- কেন অমুক তমুকের নাম দিলেন না। কেউ কেউ তো এক লাইনও পড়ে দেখেন না- কি লেখা হয়েছে। নাম ছাপা হলেই খুব ভালো হয়েছে। অন্যদিকে পত্রিকাওয়ালারাও ই-মেইলে খবরটা পেয়ে গেলে যেন বাঁচি। এমনকি ই-মেইলে খবরটা  পাওয়ার জন্যও ছুটোছুটি করেন। নিজের কোন প্রতিনিধি দ্বারা কোন অনুষ্ঠানের নিউজ কাভার করেন না। ই-মেইলের অপেক্ষা করেন। এতে বিলেতের সব কটি সংবাদপত্রে একই ভাষা-বর্ণনা, দাড়ি,কমাসহ সংবাদ ছাপা হচেছ। এতে কেউ দোষের কিছু মনে করেন না। না পত্রিকার মালিক পক্ষ, না সংবাদটির মালিক পক্ষ।  লন্ডনে প্রেস কনফারেন্স সপ্তাহে অনেকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সেটিতেও একই দশা। কর্তৃপক্ষ সংবাদ বানিয়ে দেন ই-মেইলে কিংবা একজনকে কনট্রাক্ট দিয়ে। এতেই খালাস। সবাই খুশি। এই যখন দশা সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার- এটা কি কোন আশা জাগায়?  দেশের সংবাদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যে কেউ হোচট খাবেন আরেকভাবে। আরও নাজুক অবস্থা। দেশের সংবাদ তো কাট-পিস পেস্টিং মাত্র। দেশে প্রতিনিধি আছেন, তাদেরকে বলা হয়ে থাকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার নিউজগুলো কনভার্ট করে বা কনভার্ট না করেও একটি ফোলডার করে পাঠিয়ে দিতে। দেশের সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রতিটি পত্রিকায় দেশের পাতা ও সিলেটের খবরাখবরের নির্দিষ্ট পাতা আছে। এগুলো হুবহু ছেপে দেয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো, কোন পত্রিকা থেকে ছাপা হলো, সেই কৃতজ্ঞতা থাকে না। নিউজের কোন সোর্স উল্লেখ থাকে না। এটা কি কোন সাংবাদিকতায় পড়ে? কোন সাংবাদিকই স্বীকার করবেন না সাংবাদিকতায় পড়ে বলে। উপসম্পাদকীয় ও আর্টিকেল ছাপার বিষয় পাঠককে আরেক জঞ্জালে ফেলে দেয়। পাঠক অবশ্য নিজেকে এভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছেন বলে ধরে নিতে হয়।স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে চার/পাঁচ পাতা দেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক লেখকদের দেশের জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা কোন ঋণ স্বীকার না করেই হুবহু ছেপে দেয়া হয়ে থাকে। একই লেখা তিন/চারটি পত্রিকায় একই সাথে ছাপা হয়। কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যেকের নিজ নিজ পাঠক আছে- তাই একই লেখা ছেপে দেয়া। সাহিত্যপাতার ব্যাপারে মুখ না খোলাই ভালো। কেননা, বিলেতের পত্র-পত্রিকা সাহিত্য পাতা বের করেন না। কালেভদ্রে বের করলে তা-ও হয়তো ঢাকার জাতীয় পত্রিকা থেকে নেয়া। বিলেতের দু একজন লেখকের লেখা মাঝে মাঝে ছাপা হয়ে থাকলেও গুরুত্বহীনভাবে। অথচ বিলেতে অসংখ্য লেখক রয়েছেন- যাদের লেখা দেশের পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়। এরা লিটল ম্যাগ আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছেন। এদের কর্মকাণ্ড শুধু বিলেতে সীমাবদ্ধ নয়- বিশ্বব্যাপী যাদের বিচরণ এখন সেকেণ্ডের ব্যাপার মাত্র, সেইভাবে তাদের বিচরণ আছে। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় এদের স্থান নেই বললেই চলে।   এতে লেখক বা সাংবাদিকতার মূল্যায়ন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন?

বিলেতের সাংবাদিকদের সংবাদপত্রে  কাজ দেন পত্রিকার মালিকেরা কিসের ভিত্তিতে তা এখনো স্পস্ট নয়। কেউ সামান্য ভাতা পান, কাজ করেন অন্যত্র। আবার কেউ কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর মতো( সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসনের বক্তব্য) কাজ করেন। অথবা বেতন ভাতার কোন আশ্বাস না পেয়েও অনেকে সখের বশে কাজ করেন পত্র-পত্রিকায়। সাংবাদিকতার মোহে অনেক সংবাদকর্মীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কেউ বা আবার সাংবাদিক হলে সমাজে মূল্যায়ন পাবার নেশায় মশগুল থাকেন। পত্রিকায় তাই কাজ পাবার বা পত্রিকায় কাজ করছি বলে পরিচয় দিতে পারলেই হলো অনেকের – ইত্যাদি। আর লেখকদের লেখা প্রকাশ করে কোন সম্মানি না দেয়ার রেওয়াজ এখানে এক চেটিয়া। প্রশ্নই উঠে না- কেউ দু কলম লিখে কোন সম্মানি পাবার। সুতরাং সাহিত্যচর্চার মানটা সেই দিক দিয়ে পরিচর্যার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেকটা অবহেলিত হয়ে আছে। এর ফলে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার বিকাশের ক্ষেত্রটাও সংকুচিত। আদপে তেমন  চেষ্টাও  ধোপে টেকে না। সাংবাদিকতাও তাই একই পর্যায়ে পড়ে খাবি খাচেছ। সমাধান কোথায়? সমাধান তো আছে। প্রথম কথা হলো, সংবাদপত্র  প্রকাশে যারা আসবেন তারা এটাকে শিল্প হিশেবে নিবেন। বিনিয়োগ থাকতে হবে। বেতন-ভাতা উপযুক্তভাবে দিতে হবে। প্রকৃত ও দক্ষ সাংবাদিকদের কাজ দিতে হবে। পুরো পত্রিকায় নিজস্ব আইটেম থাকতে হবে। তবে-ই না পত্রিকা হবে। পাঠকও গড়ে উঠবে সেইভাবে।  এই একটি মাত্র উপায় বা সমাধানই পালটে দেবে সংবাদপত্র জগতটাকে, এ অভিমত আমার একার নয়, অনেকের। বিলেতের বাংলা সাংবাদিকতার গৌরবও হবে গৌরবজনক। বিলেতের সাংবাদিকতার একশ বছর বা গৌরবের একশ বছর বলে চিতকার দিলেও মানের প্রশ্নটি এর কথিত যে  কোন আলোচনাকে ম্লান করে দেবে । প্রধানত এর মূলে একটি বিশাল  প্রশ্ন রয়েছে বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ে।  যে বিষয়টি উদ্যোক্তারা বলে থাকেন। আমি মনে করি, যারা এ জগতে আসছেন- তাদের দুরদর্শিতার অভাব বা ঘাটতি থাকতে পারে। অথবা আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। এতে ভেবে দেখতে দোষ কি? আমি সেইভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি  ভাবার জন্যই বলছি।

অনেকেই মনে করেন. বাজার ব্যবস্থার এখানে একটি সুন্দর ক্ষেত্র রয়েছে। প্রথমত বিজ্ঞাপন ও বিপননকে নিয়ে। পত্রিকার মান বৃদ্ধি পেলে লক্ষাধিক পত্রিকার কাটতি নিশ্চিত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর কাটতি বেশি হলে বিজ্ঞাপনদাতা যেকোন সংস্থা বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হবে। বিজ্ঞাপনদাতার কোন কল্যাণ তার প্রদত্ত বিজ্ঞাপন যদি বয়ে না নিয়ে আসে- তাহলে তার আগ্রহ থাকবে কেন?  এ সম্পর্কে আরো বিশদভাবে বলার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা জানি, বর্তমানে সংবাদপত্রসমূহের মালিক বা  কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত ব্যক্তি  বিজ্ঞাপনের জন্যে ছুটোছুটি করেন ব্যবসায়ীদের দুয়ারে দুয়ারে। খুব অল্প পয়সায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে চুক্তিবদ্ধ হন। অনেকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের পয়সা পরিশোধ করেন, অনেকে করেন না। এইভাবেই বিলেতের সংবাদপত্র চলছে। বিজ্ঞাপন হলো সংবাদপত্রের প্রাণ। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আর্থিক সঙ্গতি গড়ে উঠে। বিজ্ঞাপনের টাকা যদি উঠে না আসে বা গচছা যায় তবে যে কোন উদ্যোক্তা পিছিয়ে পড়তে বাধ্য। এই জন্য বর্তমান সময়ের সংবাদপত্রের মালিকপক্ষ বিনিয়োগকৃত টাকা গচছা যাওয়ার ভয়ে কোন রকমে টেনে-টুনে চলছেন। দেখা যাচেছ, যারা বিজ্ঞাপন দেয়ার উপযুক্ত, বিভিন্ন কর্পোরেট ব্যবসা করছেন, বা কোন সংস্থা কমিউনিটির বিভিন্ন স্বার্থ সংরক্ষণ করেন, তারা মেইন স্টীম সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ঠিকই দিচেছ। কিন্তু বাংলা পত্র-পত্রিকায় দিচেছ না। তাদের বক্তব্য হলো, বাংলা সংবাদপত্র মানসম্মত নয় এবং র্সাকুলেশন অতি অল্প। সুতরাং বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের কোন উপকার হবে না। বিলেতে যারা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন, তারা তো প্রত্যেকেই এই বিষয়টি জানেন, বুঝেন। কিন্তু ভাবেন না কেন? তাই বিলেতের সংবাদপত্র নিয়ে ভাবতে হবে, সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমে সংবাদপত্রকে শিল্পের মর্যাদা দিতে হবে। আমাদের প্রবাসীদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্যবসা বিষয়ে। অতি ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে ব্রিটেনের মূলধারায় খ্যাতিমান ধনিক হওয়ার গৌরব রয়েছে বাঙালিদের। বাংলাদেশের অনেক অখ্যাত পণ্যকে অর্থবিত্ত রোজগারের মাধ্যম করে সফলতা অর্জন করেছেন অনেক বাঙালি। আর পৃথিবীব্যাপী কারি ইণ্ডাস্ট্রির জয়জয়কার বাঙালির শ্রম ও  মেধার কল্যাণে ঘটেছে। এখন জনপ্রিয় খাবার হলো স্পাইস ফুড। বিলেতের বাংলা সংবাদপত্র নিয়ে   নির্মোহ  আলোচনা করলে দেখা যায়-কোন সৃজনশীল ও সাহসী  উদ্যোগ ছাড়া  বিলেতের সাংবাদিকতার মান বৃদ্ধি পাবার কোন লক্ষণই দেখা যাচেছ না। সাংবাদিকতাও গড়ে উঠবে না। অপসাংবাদিকতাই সাংবাদিকতাকে তলিয়ে দেবে সাংবাদিকতার নামে এ সব মন্তব্য অনেকেরই। শতবর্ষ পূর্ণ হবে আগামী  ১লা নভেম্বর। এ পূর্ণতার মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে না কোনো অর্জনই যা- সাংবাদিকতার শতবর্ষের ইতিহাসকে উজ্জ্বল করবে। সমাপ্ত