যে কারণে বরিস জনসন দলের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি!!!

91

 ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী

ব্রিটেনের প্রধান রাজনৈতিক দল টোরি এবং লেবার দলের নেতৃত্ব নিয়ে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। গণভোটের ফলাফলে ইউরোপে নিয়ে যখন ব্রিটেন কার্যত দ্বিধা বিভক্ত, তখন প্রয়োজন হলো সঠিক নেতৃত্ব। যিনি এই ক্রান্তি কালে দ্বিধা বিভক্ত জাতিকে একত্রিত করে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাবেন ঠিক এই মুহূর্তে রাজনীতির অঙ্গনে অস্থিরতা কার্যত ঘোটা ব্রিটেন এক কঠিন সময় পর করছে। গণভোটের ফলে ব্রিটেন এখন ইউরোপের সাথে কি সম্পর্ক গঠন করবে অথবা ইউরোপ ব্রিটেনকে কি ভাবে গ্রহণ করবে এই বিষয়গুলো নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠিক এমন সময় নেতৃত্বের টানা পোড়ান সাধারণ মানুষকে আরো দুরাশায় পতিত করে। কথা বলছিলাম গতকাল সন্ধ্যায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৫ বারের নির্বাচিত অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ইলফোর্ড সাউথের এমপি মাইক গাইপসের সাথে। প্রসঙ্গ ক্রমে উঠে আসে অনেক কথা। ব্রিটিশ রাজনীতির গতিবিধি সম্পর্কে অজানা তথ্য অনেক জানার সৌভাগ্য হয়। স্বয়ং মাইকের ভাষায় রাজনীতিতে খুব দ্রুত পরিবর্তন হবে। আর এই পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিটি মিনিটে এবং চরম নাটকীয় ভাবে। আগামী দৃশ্যে অথবা পরবর্তী মিনিটে কি হবে কেউ কিছু বলতে পারেনা।

গণভোট উত্তর ব্রিটেনে যখন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং ঘোষণা দেন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে টোরি পার্টির নেতা নির্বাচন হবেন আর তখন পর্যন্ত ব্রিটেন অথবা ইউরোপকে কে অপেক্ষা করতে হবে পারস্পারিক সম্পর্ক নির্ধারণে তখন মুটামুটি পরিষ্কার ছিল লিভ ক্যাম্পাইনের প্রধান ভোকাল লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিসই হবেন আগামী ব্রিটেনের কান্ডারি। এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি ও রয়েছে। তিনিই ব্রিটেনকে লিভ ভোটে উদ্বুদ্ব করেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন লিভ করলেই ব্রিটেনের জন্য মঙ্গল। সুতরাং সাধারণ মানুষ ধরে নিয়েছিলো তার জুড়ীতেই রয়েছে ভিবষ্যৎ ব্রিটেনের স্বপ্ন। নিয়ম অনুযায়ী ইউরোপ বিহীন ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেয়ার গুরু দ্বায়িত্ব তার উপরই বর্তায়।

৩০ জুন দুপুর ১২।০০ টা ছিলো টোরি পার্টির নেতা নির্বাচনের নমিনেশন দেয়ার শেষ সময়। সকাল বেলা গাড়ি চালিয়ে কোর্টে যেতে শুনছিলাম LBC রেডিওর খবর দুপুর ১০ টা পর্যন্ত মিডিয়ার সবচেয়ে ফেভারিট প্রার্থী।

হটাৎ করে ১১।০০ টার দিকে মিডিয়ার ভিন্ন সুর। বরিস নাকি প্রার্থিতা করবেননা! প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি, তারপর যখন একে একে সব মিডিয়াতে চলে আসলো খবর ঠিক তখন পরিষ্কার হয় তিনি আর ডাউনিং স্ট্রিটের দৌড়ে নাই। খুব আশ্চর্য্য হলাম। তখন মনে পড়লো আগের দিন সন্ধ্যায় এমপি মাইকের কথা। উনি বলেছিলেন বরিস একটি চরিত্র, তিনি কখন কি বলেন বা কি করেন বুঝা মুশকিল। তিনি কখনো স্থির থাকেননা। মিনিটে মিনিটে মত বদলান। মাইকের ভাষায় বরিস প্রধানমন্ত্রী হলে ব্রিটেনের কপালে আরো অনেক দুঃখ আছে। সে যাই হোক, প্রশ্ন হলো হঠাৎ বরিস সাহেবের মত পরিবর্তনের কারণ কি? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদের খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন নাই। উত্তর আমাদের সামনে। গণভোট পরবর্তী ব্রিটেনে পাউন্ডের মূল্য কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ব্যংক অব ইংল্যান্ডের ২৫০ বিলিয়ন ইনজেকশন অর্থনীতিকে সাময়িক ভাবে ও ধরে রাখতে পারেনি। অর্থনীতি ক্রমাগত নিম্নমুখী। সরকারের সকল প্রচেষ্টা বাজারকে সাহস জোগাতে পারছেনা। অর্থাৎ ব্রিটেন ধীরে ধীরে মান্দার দিকে যাচ্ছে। যা আগে থেকেই অনুমেয় ছিলো। অপরদিকে ইউরোপ ব্রিটিনের গণভোটকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। ইউরোপ নেতৃবৃন্দের নিত্যনতুন হুঙ্কার আর চাপ ব্রিটিনের ভবিষ্যৎ এখন ধুয়াশায় পরিণত। স্বাভাবিক ভাবে এই কঠিন সময়ে তারাই নেতৃত্ব দিবেন যারা ব্রিটেনকে লিভ করতে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাই গুরুদ্বায়িত্ব কিন্তু বরিস জনসনের উপর বর্তায়। কিন্তু তার এই অসময়ে প্রস্থান নির্ধিদায় জাতিকে আরো হতাশা গ্রস্ত করবে।

তার এই প্রস্থানের পেছনে আর কি কারণ থাকতে পারে। প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় লিভ পাশ করলে কি ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন অবস্থা কেমন হবে এই ব্যাপারে তার কোন প্রকার ধারণা অথবা হাউস কিপিং ছিলোনা। যদি থাকতো তাহলে তিনি এভাবে চলে যেতেননা। আর আমার ধারণা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো এরকম ধারণা বিহীন রাজনীতি নিয়ে ঘোটা জাতিকে এভাবে অন্দ্বকারে ঠেলে দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিলো? সময়ই তা বলে দিবে। এখন অবস্থা দৃষ্টি মনে হচ্ছে টোরি পার্টির নেতা তেরেসা মে হবার সম্ভাবনা বেশি। তেরেসা মে আগাগুড়া প্রো – ইউরোপ। তাই দেখার বিষয় যদি মে প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি কিভাবে ব্রিটিনের স্বার্থ রক্ষা করে ইউরোপের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। যা হবে তার জন্য প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

লেখক: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ সভাপতি দি সোসাইটি অব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সলিসিটর্স প্রিন্সিপাল, কে সি সলিসিটর্স ইউ.কে।