‘তৃতীয়বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ ’ ১৯ – : মাহমুদ এ রউফ

83

বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতিক,কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ দেশে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে যুক্তছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের  সক্রিয়  কর্মী ও ছাত্রনেতা। সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মদনমোহন  কলেজের শিক্ষার্থী  ছিলেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে লন্ডনে আসেন ষাটের দশকের  শেষার্ধে। জড়িয়ে পড়েন বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিলেত হয়ে ওঠে তৃতীয় রণক্ষেত্র। মাহমুদ এ রউফ বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তাঁর  লেখনিতে উঠে আসছে  ‘তৃতীয় বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ‘।

বিলেতবাংলা২৪.কম ধারাবাহিক প্রকাশ করছে বিলেতে বাঙালির প্রত্যয়দীপ্ত এই আগুনঝরা দিনের ইতিহাস। প্রতি সপ্তাহে  থাকছে ‘তৃতীয়বাংলায়  মুক্তিযুদ্ধ ‘।-নির্বাহী সম্পাদক।

কিস্তি ১৯

পাকিস্তানি প্রগতিশীলদের সমর্থন

অত্যন্ত আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে লন্ডনে পাকিস্তানি প্রগতিশীলরাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত জনগণের সমর্থনে বক্তব্য রাখে। বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু হওয়ার সপ্তাহ দিনের মধ্যেই পাকিস্তানি স্যোসালিস্টদের পক্ষ থেকে তারিক আলী, হামজা আলভী, মোহাম্মদ আখতার, নাসিম বাজওয়া প্রমুখ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন ও অভিনন্দন জানায়। সাধারণ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য এহিয়া খানের প্রতি দাবী জানায়। পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার জন্য ভুট্টোকে দায়ী করে তারা।

গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একই সময়ে আরেকটি খবরে জানা যায় যে, পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর মোহাম্মদ খান জানজুয়া, কর্নেল ইনায়েত হাসান ও ফরিদ জাফরীর মত ব্যক্তিরা ভুটো-এহিয়ার চক্রান্তকে বাংলাদেশের মানুষের উপর অন্যায়ভাবে  যুদ্ধ ঘোষণার জন্য নিন্দা করে শিঘ্রই সাধারণ নির্বাচনের রায় মেনে নিয়ে সংসদে সংখ্যা গরিষ্টদের  হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবী জানায়। মে মাসের শেষের দিকে, খবর পাওয়া গেল পাকিস্তানের সীমান্ত গান্ধী বলে পরিচিত আফগানিস্তানে অবস্থানরত প্রবীন পাখতুন নেতা খান আবদুল গাফফার খান দীর্ঘ এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই অবস্থার জন্য ভুটো-এহিয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি নির্বাচিতরে হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার দাবী জানান।

এদিকে, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে নির্বাচিত সীমান্ত প্রদেশের সংখ্যা গরিষ্ট নেতা খান আবদুল ওয়ালি খান  এক ঘোষণায় বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করে বলেন, এহিয়া-ভুট্টোর অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের ফলে পাকিস্তান ভেঙে গেছে। এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, হাঁড়ি ভেঙে দুধ ছড়িয়ে গেছে। এই দুধ আর ফিরিয়ে হাঁড়িতে আনা অসম্ভব। খান আবদুল গাফফার খান তাঁর বিবৃতিতে বলেন, মুসলমান নামধারী পাকিস্তানি সৈন্য পূর্ব বাংলায় লক্ষ লক্ষ  মুসলমান হত্যা করছে। তিনি পাকিস্তানিদের উদ্দেশে বলেন,পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সব সময় ধর্মের নামে আমাদের প্রতারিত করছে।  সবাইকে তিনি হুঁশিয়ার থাকতে আবেদন জানান।

তারপর একাত্তরের মে মাসের শেষের দিকে ভারতের প্রগতিশীল নেত্রী বাঙালি অরুনা অসফ আলী  মস্কো হয়ে লন্ডনে আসেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে লন্ডনের অবাঙালি প্রগতশিীলদের সাথে অনেকগুলো ছোট ছোট সভায় মিলিত হন। ‘বাংলাদেশ জনগণতান্ত্রিক ফ্রণ্ট-এর সদস্যরাও তার সাথে মিলিত হয়ে মতবিনিময় করেন। চলবে