‘তৃতীয়বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ ’ ১৮ – : মাহমুদ এ রউফ

104

বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতিক,কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ দেশে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে যুক্তছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের  সক্রিয়  কর্মী ও ছাত্রনেতা। সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মদনমোহন  কলেজের শিক্ষার্থী  ছিলেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে লন্ডনে আসেন ষাটের দশকের  শেষার্ধে। জড়িয়ে পড়েন বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিলেত হয়ে ওঠে তৃতীয় রণক্ষেত্র। মাহমুদ এ রউফ বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তাঁর  লেখনিতে উঠে আসছে  ‘তৃতীয় বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ‘।

বিলেতবাংলা২৪.কম ধারাবাহিক প্রকাশ করছে বিলেতে বাঙালির প্রত্যয়দীপ্ত এই আগুনঝরা দিনের ইতিহাস। প্রতি সপ্তাহে  থাকছে ‘তৃতীয়বাংলায়  মুক্তিযুদ্ধ ‘।-নির্বাহী সম্পাদক।

কিস্তি ১৮

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য প্রগতিশীল সংগঠনের আবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য প্রগতিশীলদের সমর্থন আসা যখন শুরু হলো  ঠিক তখনই মে মাসের প্রথম দিকে ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সাধারণ  জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করে জোরালো বক্তব্য রাখে এবং ব্রিটেনের শ্রমিকসহ সকল প্রগতিশীলদের প্রতি সমর্থনের আহবান জানায়। এই  সমর্থন ব্রিটিশ শ্রমিক,শক্তিশালি ট্রেড ইউনিয়নসহ বিশ্ব প্রগতিশীলদের  মতামত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিয়ে আসতে অত্যন্ত সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছিলো। যার ফলে শক্তিশালি ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন সভায় এমনকি পার্টির কংগেসে পর্যন্ত আমাদের  আমন্ত্রণ এসেছিলো,যাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে সঠিক ভাষ্য তাদের কাছে তুলে ধরে ব্রিটিশ জনমত  আমাদের অনুকুলে সৃষ্টি করা যায়। এ সমস্ত সভায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদকে অন্তত দুটি সভায় উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিলো। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা সভাগুলোতে যোগ দিয়ে  বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এ সব সমর্থন আমাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য সহায়ক শক্তি হয়েছিলো।

ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টি শুধু সমর্থন  দিয়েই বসে থাকেনি তারা মুক্তিযুদ্ধকে সাহায্য করার জন্য তাদের  সাধারণ সদস্যদের কাছে অর্থ সাহায্যের জন্য আবেদন জানায়। পার্টির এই আহবানে অনেক অর্থ সংগ্রহ হয়েছিলো। জুলাই মাসের প্রথম দিকে সংগৃহিত অর্থ ভারতে আশ্রয়কৃত বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছিলো।  লন্ডনে আমরা যারা তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতাম তাদের অবগতির  মাধ্যমেই এই অর্থ রনাঙ্গনে  পাঠানো হয়েছিলো।  জানা প্রয়োজন যে, ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টি সব সময়ই সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করতো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সোভিয়েত পার্টির সমর্থন  আমাদের অজানা নয়। সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি ও সোভিয়েত সরকারও বাংলাদেশের জনগণের আর্ন্তজাতিকভাবে খুবই শক্তিশালি বন্ধু হিশেবে সাহায্য করেছিলো। চলবে