ব্রেক্সিট: উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

56

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৮ জুন:  ব্রেক্সিট গণভোট-পরবর্তী প্রথম অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পার্লামেন্ট অধিবেশনে গিয়ে নাজেহাল হলেন ব্রেক্সিটের পক্ষে অন্যতম প্রচারণাকারী ব্রিটেনের রাজনীতিবিদ নাইজেল ফারাজ। অধিবেশনে উপস্থিত অন্য রাজনীতিবিদরা কোনো ধরনের রাখঢাক না করেই ফারাজের ওপর তাদের রাগ ও ক্ষোভ ঝাড়েন। ইইউ কমিশন প্রধান জঁ্য ক্লদ জাঙ্কার নাইজেল ফারাজের প্রতি বিরক্ত হয়ে বলেন, আপনি কেন এখানে?

এদিকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে জঁ্য ক্লদ বলেন, ব্রিটেনকে অবশ্যই ব্রেক্সিট ইস্যুতে যতটা দ্রুত সম্ভব নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনে ব্রেক্সিটের প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। এদিকে ব্রেক্সিট গণভোট হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ইইউ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলেছেন, ব্রিটেনের প্রত্যাহার-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইইউ যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি ব্রিটেনকে সতর্ক করে বলেন, ইইউ ব্রেক্সিট আলোচনায় যুক্তরাজ্যের ‘সুবিধাবাদী’ আচরণ সহ্য করবে না। ভবিষ্যতে বিশ্বদরবারে নিজের স্বার্থ রক্ষায়ও ইইউ যথেষ্ট শক্তিশালী।

ব্রেক্সিট গণভোটের পর গতকালই প্রথম ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে কমিশন প্রেসিডেন্ট ক্লদ বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা নিয়ে বসে থাকতে পারব না। আর কোনো গোপন আলোচনাও হবে না। তিনি বলেন, ব্রিটেন এবং ইইউ বন্ধুই থাকবে কিন্তু অনিশ্চয়তা এড়াতে ব্রিটেনকে অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। তাদের অতিসত্বর বিচ্ছেদের জন্য ইউরোপীয় কাউন্সিলে প্রস্তাব পেশ এবং প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

জাঙ্কার তার ভাষণের একপর্যায়ে বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছা’কে সম্মান জানাতে হবে।’ তার এ বক্তব্যে হাততালি দিয়ে ওঠেন পাশে বসা নাইজেল ফারাজ।

জাঙ্কার তখন ফারাজের দিকে ঘুরে বলেন, ‘আমি খুব অবাক হচ্ছি যে, আপনি এখানে। আপনি তো বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন, ব্রিটিশ জনগণও বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তো, আপনি কেন এখানে? মনে রাখবেন, আপনি এখানে শেষবারের মতো তালি বাজাচ্ছেন।’

এ সময় হাসছিলেন তার ডান পাশে বসা ফারাজ। তিনি ব্রেক্সিট গণভোটে ইইউ ‘বেরিয়ে’ যাওয়ার পক্ষে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের একজন এবং ব্রিটেনের হয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেরও একজন সদস্য তিনি। তার টেবিলের ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পতাকা।