বিশ্ব পুঁজিবাজার: একদিনেই লোকসান ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার

74

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৬ জুন: ইইউ জোট ছেড়ে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার গণরায়ে বিশাল ধস নেমেছে সারাবিশ্বের পুঁজিবাজারে। শুক্রবার একদিনেই আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারগুলোতে ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের দরপতন হয়েছে। গত ৩১ বছরের ইতিহাসে একদিনে সারাবিশ্বে এটি সবচেয়ে বড় ধস। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আর বিশ্বমন্দার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই লোকসানের পরিমাণ ১৬৪ লাখ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেট সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার। সে হিসাবে বিশ্ব শেয়ারবাজারের একদিনের লোকসান বাংলাদেশের ৪৭টি বাজেটের সমান।

ব্রেক্সিট ভোটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়াসহ বিশ্ব পুঁজিবাজারে। টোকিও ও প্যারিস শেয়ারবাজারে ৮ শতাংশ পতন হয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্টে নেমেছে ৭ শতাংশ আর লন্ডন ও নিউইয়র্কে সূচক নেমেছে ৩ শতাংশ। ইতালি ও স্পেনের শেয়ারবাজারে দরপতন ছাড়িয়েছে ১১ শতাংশ। জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এমএসসিআইর সূচক কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের এফটিএসই-১০০ সূচক শুক্রবার শুরুতেই সাড়ে ৭ শতাংশ দর হারায়। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচার্সের পতন হয় প্রায় ৯ শতাংশ। ইউরো জোনের ইউরো স্টক্স ৫০ ফিউচার্সের দর ১১ শতাংশের বেশি পড়েছে। জাপানের স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক নিক্কি-২২৫ ৭.৭ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সূচক কোসপি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০৯.১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের পর প্রথম এই ডলারের বিপরীতে কোরিয়ান মুদ্রার দাম সর্বোচ্চ কমল। এদিকে চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১.২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮৫৭.৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে হংকংয়ের স্টক এক্সচেঞ্জ হ্যাং স্যাংয়ের সূচক ৪.৭ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ৮৯৪.১২ পয়েন্টে পেঁৗছেছে। আর ভারতের মুম্বাইয়ের সেনসেক্স সূচক ৩.৪ শতাংশ কমে ২৬ হাজার ২২.৬০ পয়েন্টে এসে দাঁড়ায়।

ব্রেক্সিটের প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারেও। সূচক এএসএক্স-২০০ ৩.৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১০০ পয়েন্টে নেমে গেছে। এসঅ্যান্ডপি ডাউ জোন্স সূচক অনুসারে, বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার দরপতন হয়েছে। ডউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ২০১১ সালের পর এই প্রথম একদিনেই সবচেয়ে বেশি ৬১০ পয়েন্ট লোকসান নথিভুক্ত করেছে।

এদিকে ব্রেক্সিট ফল ঘোষণার আগে ইইউতে থাকার পক্ষ জয়ী হবে বলে ব্যবসায়ীদের বাজির কারণে পাউন্ডের দর হঠাৎ বেড়ে দেড় ডলারে উঠে। কিন্তু ফল ঘোষণার পর ৩১ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামে পাউন্ড। ১০ শতাংশেরও বেশি দরপতন ঘটে ব্রিটিশ মুদ্রার। খবর এনডিটিভি ও এএফপির।