গণভোটের দাবি উঠেছে ইইউ’র অন্য দেশগুলোতেও

82

বিলেতবাংলা ডেস্ক,২৪ জুন :  ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটিশ জনগণের রায়ের প্রভাব পড়েছে ইইউ-জোটের অন্যান্য দেশেও।

যুক্তরাজ্যের ভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসায় ইইউ এর অন্যান্য সদস্য দেশের কট্টর-ডানপন্থি দলগুলো এখন নিজ নিজ দেশেও একই রকম ভোট দাবি করছে।

ব্রিটেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফ্রান্সে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট।

বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী ও শরণার্থীদের রুখতে ব্যর্থতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দায়ী করে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্ট নেতা মারিন লে পাঁ বলেছেন, ফ্রান্সেরও এখন এ জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি বেছে নেওয়ার অধিকার আছে।

যুক্তরাজ্যের গণভোটের রায়কে স্বাগত জানিয়ে মারিন লে পাঁ একটি টুইট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার জন্য জয় হয়েছে। যেমনটি আমি কয়েক বছর ধরে বলে আসছি। এখন ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোতেও একই রকম করে গণভোট হওয়া প্রয়োজন।’

নেদারল্যান্ডসের ফ্রিডম পার্টির নেতা গ্রিট ওয়াইল্ডারস বলেন, “হুররে ব্রিটিশ! এখন আমাদের পালা। এখন সময় ডাচ গণভোটের।”

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা নিজ দেশে পরিবর্তন চাই, নিজেদের অর্থ চাই, নিজেদের সীমান্ত চাই এবং নিজেদের অভিবাসন নীতি চাই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইইউ এ নেদারল্যান্ডসের সদস্যপদের ব্যাপারে ডাচ জনগণের রায় জানার সুযোগ পাওয়া উচিত।”

মার্চে নেদারল্যান্ডসে সাধারণ নির্বাচন হবে এবং জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন ওয়াইল্ডারস। দেশটিতেত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ৫৪ শতাংশ মানুষই ইইউয়ে থাকা না থাকা প্রশ্নে গণভোটের পক্ষে।

ইতালির অভিবাসনবিরোধী নর্দান লিগের নেতা মাত্তেও সালভিনি ব্রেক্সিটের খবরে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হুররে মুক্ত নাগরিক হওয়ার সাহস! হৃদয়, মগজ এবং গৌরব পরাজিত করল মিথ্যা, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলকে।”

সুইডেনের অভিবাসনবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ট্যুইটারে লিখেছে, “ আমরা এখন সুয়েক্সিটের অপেক্ষায়।”

ডেনমার্কে ‘ড্যানিশ পিপলস পার্টি’ নেতা ক্রিস্টিয়ান তুলেসেন বলেছেন, “গণভোট খুবই ভাল একটি গণতান্ত্রিক রীতি।”

জার্মানির ইউরোবিরোধী এএফডি পার্টির ব্রিয়াট্রিকস ফন স্টচ যুক্তরাজ্যের গণভোটকে গ্রেট ব্রিটেনের জন্য ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলেছেন। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্য ক্লদ জাঙ্কেরকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক জোট হিসাবে ইইউ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে যুক্তরাজ্যের গণভোটের প্রভাবে ইইউ নাজুক অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ। ইইউয়ের ‘খুবই ভাল’ প্রস্ততি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।