ইইউ ছাড়লে কেমন যাবে পরের ১০০ দিন?

57

বিলেতবাংলা ডেস্ক,২৪ জুন:  ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেন বের হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে বৃহস্পতিবার গণভোট হয়েছে। আজ (শুক্রবার) ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করলে (ব্রেক্সিট) আগামী ১০০ দিন কেমন যাবে-বৃহস্পতিবার তার একটি ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। উল্লেখ্য, ‘রিমেইন’ শিবিরের মধ্যে রয়েছে ডেইলি মেইল। তাদের ভাষ্য, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে ব্রিটেন আবার আগের গৌরব ও সমৃদ্ধির পথে যাত্রা শুরু করতে পারবে না।

 ২৪ জুন

পর্যুদস্ত প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এসে ব্রিফিং করবেন। তিনি তার পরাজয় স্বীকার করবেন। যেহেতু তিনি ইইউয়ে থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। ক্যামেরন জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেবেন। তবে বিশদভাবে কোনো ব্যাখ্যা হয়তো দেবেন না। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হয়তো কিছু বলতে পারেন। ইইউ ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি দিন টিকে থাকা নিয়েও ক্যামেরনকে সংগ্রাম করতে হতে পারে।

রক্ষণশীল টরি পার্টিতে নেতৃত্বের টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে এবং এ সুযোগে ইইউ ছাড়ার পক্ষের কট্টর রাজনীতিক ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন দলের নতুন নেতা হবেন। রাষ্ট্রীয় তহবিল, দি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক অনির্ধারিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

 ২৮-২৯ জুন

ইইউয়ের সদরদফতর ব্রাসেলসে মিলিত হবেন সদস্যরাষ্ট্রের নেতারা। এদিনের আলোচনায় একটাই ইস্যু হবে ‘ব্রেক্সিট’। তাদের আলোচনা হয়তো কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। ক্যামেরন ইইউ নেতাদের কাছে তার দেশের জনগণের ইচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনকে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হবে। এরপর শুরু হবে পরবর্তী ২ বছরের জন্য ইইউ’র সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য, বিচার ও অন্য চুক্তিগুলো নতুন করে বুঝে নেয়া। এ সময় ইইউ’র সঙ্গে ব্রিটেনের দরকষাকষি হবে এবং অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও ঝোপ বুঝে কোপ মারা চেষ্টা করবে।

৬ জুলাই

চলতে থাকা চুক্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে সহজে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে ব্রিটেন। বাজার ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হওয়ার আশংকা থাকলেও জনগণ সামান্য পরিবর্তন দেখতে পারবে। অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব একচেকার) জর্জ অসবোর্নের পদত্যাগের দাবি জোরালো হবে। এ দিন বহুল প্রতীক্ষিত ইরাক তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন ক্যামেরন। তারপর তিনি ন্যাটোর এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

 ২১ জুলাই

সংসদ অধিবেশনের পরও মন্ত্রীরা চরম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার করবেন। কারণ তাদের ঘাড়ে চুক্তি নিয়ে সমঝোতার চাপ থাকবে। এ সময় পর্যন্ত ক্যামেরন যদি প্রধানমন্ত্রী থাকেনও, তবু তাকে চাপের মুখে থাকতে হবে। ইইউ ছাড়ার পক্ষের মন্ত্রী মাইকেল গভকে হয়তো চুক্তি নবায়নের বিষয়গুলো দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। ইইউ ত্যাগের পক্ষের নেতারা আগেই বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে নতুন করে চুক্তি করার সময় দেশের বিভিন্ন দল, ব্যবসায়ী ও গুণীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

 আগস্টের মাঝামাঝি

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি কোণঠাসা হয়ে যেতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে অসমর্থ হলে চুক্তি নবায়নের জন্য হয়তো ক্যামেরনের পরিবর্তে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বরিস জনসনই হয়তো হবেন সেই ব্যক্তি।

সেপ্টেম্বর

সংসদ অধিবেশন আবার চালু হবে। এ সময় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে না পারা এমপিরা সমালোচনার মুখে পড়বেন। সব কাজে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। ১৯৯৪ সালের ভ্যাট আইন সংশোধন করে গৃহস্থালি বিদ্যুতের ওপর আরোপ করা ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন ইইউ ত্যাগ করার পক্ষের নেতারা। এছাড়া ইউরোপীয়ান কমিশন অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুসারে, ইউরোপের যে কোনো দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বিধান রোধ করা হবে।

এ সময় নানা নাটকীয়তার মধ্যে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের প্রশ্ন উঠবে।

৫ অক্টোবর

ব্রেক্সিটের ১০০ দিন পর বার্মিংহ্যামে কথা বলতে পারেন ক্যামেরন। ব্রিটেনকে শক্তিশালী সার্বভৌম জাতি হিসেবে গঠনের অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করবেন। বরিস জনসন দেশের হিরো হিসেবে আবির্ভূত হবেন। তিনি ঘোষণা দেবেন, ব্রিটেন আবার নতুন করে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।