ক্ষুদ্র ঋণে ফল নেই: প্রধানমন্ত্রী

81

বিলেতবাংলা ডেস্ক,২২ জুন   ‘উচ্চ সুদের জালে’ দরিদ্র মানুষকে জড়িয়ে ফেলার কারণ উল্লেখ করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমালোচনা আবারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঋণের ওই জাল থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের গ্রামের দরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী হতে ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ ও ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’কে অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২২ জুন   বুধবার গণভবনে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা একসঙ্গে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “একসময় আমি নিজেও মাইক্রোক্রেডিটের পক্ষে বলতাম। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম, যারা ঋণ নিচ্ছে এবং সপ্তাহ শেষে ওই ঋণের টাকা শোধ দিতে হচ্ছে, সে কোনো স্থায়ী কর্মসূচি নিতে পারছে না, স্থায়ী কর্মকাণ্ড যে করবে সে সুযোগ তার নাই।

“কারণ তাকে উচ্চহারে সুদ দিতে হচ্ছে। ফলাফলটা দাঁড়াচ্ছে, যারা এ সুদটা দিচ্ছে বা ব্যবসা করছে তারা যতটা লাভবান হচ্ছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠি; তারা কিন্তু ওখান (দরিদ্রতা) থেকে বের হতে পারছে না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় তারা ঋণের টাকা দিতে পারছে না বলে হয় আত্মহত্যা করছে, নয়ত তাদের ঘরবাড়ি সব বিক্রি করে দিয়ে অথবা যা কিছু আছে সব বিক্রি করে দিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

“অথবা একটার পর একটা ঋণ নিয়ে নিয়ে ওই ঋণের জালে সবসময় তারা জড়িয়ে থাকছে। ঋণগ্রস্ত হয়েই তাদের জীবনটা কাটাতে হচ্ছে, তারা কখনোই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে না।”

এ অবস্থা দেখেই ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প তৈরির চিন্তা মাথায় আসে বলে অনুষ্ঠানে জানান শেখ হাসিনা।

প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় স্বল্প পরিসরে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প শুরু করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।

২০০৮ সালে শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরলে প্রকল্পটি পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে সারাদেশে এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার সমিতির মাধ্যমে প্রায় ২৩ লাখ পরিবার সম্পৃক্ত।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে গ্রামীণ জনপদে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঞ্চয় ও অর্জিত অর্থ লেনদেন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান এবং বিনিয়োগের জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার।

এ ব্যাংকের ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় রয়েছে সরকার এবং বাকি শেয়ারের মালিকানা সংরক্ষিত রয়েছে একটি বাড়ি একটি খামার সংশ্লিষ্ট সমিতি ও অনুরূপ সমিতির জন্য।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার মনে করে গ্রামের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয়, মজবুত হয়, সেখানে যদি অর্থ সঞ্চিত থাকে, তার সুফল সারাদেশ পাবে এবং দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হবে।

তিনি বলেন, “অর্থাৎ তার টাকাটা তারই থাকল। ওই ঋণের (ক্ষুদ্র ঋণ) সুদ নিতে গিয়ে তাকে কেউ ঘরবাড়িহারা করতে পারবে না, নিঃস্ব-রিক্ত করতে পারবে না।

“এই সঞ্চয়টা তার ব্যক্তি হিসেবে যতটা থাকছে, পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনীতিতে বিরাট একটা অবদান রাখছে।”

দরিদ্র মানুষের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য থেকেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল কীভাবে সমিতির মাধ্যমে বাজারজাত করা যায় এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজতকরণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা যায় সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্যের ‘দুষ্ট চক্র’ থেকে এদেশের মানুষকে তুলে আনতে হবে।

“অনেক কর্মসূচি তা সরকার বাস্তবায়ন করেছে। তার ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে, সেটাই লক্ষ্য করছি।”

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও সিলেটে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপকারভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন।