‘তৃতীয়বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ ’ ১৫ – : মাহমুদ এ রউফ

89

বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতিক,কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ দেশে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে যুক্তছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের  সক্রিয়  কর্মী ও ছাত্রনেতা। সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মদনমোহন  কলেজের শিক্ষার্থী  ছিলেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে লন্ডনে আসেন ষাটের দশকের  শেষার্ধে। জড়িয়ে পড়েন বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিলেত হয়ে ওঠে তৃতীয় রণক্ষেত্র। মাহমুদ এ রউফ বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তাঁর  লেখনিতে উঠে আসছে  ‘তৃতীয় বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ‘।

বিলেতবাংলা২৪.কম ধারাবাহিক প্রকাশ করছে বিলেতে বাঙালির প্রত্যয়দীপ্ত এই আগুনঝরা দিনের ইতিহাস। প্রতি সপ্তাহে  থাকছে ‘তৃতীয়বাংলায়  মুক্তিযুদ্ধ ‘।-নির্বাহী সম্পাদক।

 কিস্তি ১৫

গীতিবিচিত্রার রিহার্সেলের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশ সহজেই হয়ে গেল বটে কিন্তু নৃত্যনাট্যের রিহাসের্লের জায়গা বের করা নিয়ে সমস্যা দেখা দিল। ১২ জনের মতো নৃত্যনাট্যে অংশগ্রহণকারি। তারপর রয়েছে আনুসাঙ্গিক সাহায্যকারিরা। নৃত্যে অংশগ্রহণকারিদের  রিহাসের্লের জন্য বেশ বড় জায়গার প্রয়োজন। কোনো ফ্লাটের উপর তালায় জায়গা থাকলেও রিহার্সেল দেয়া সম্ভব নয়। নিচের তালার লোকের অভিযোগ আসার আশংকা রয়েছে। সুতরাং নিচের তালায় ব্যবস্থা হতে হবে। নৃত্যনাট্যের প্রধান পরিচালক এবং প্রধান নৃত্য শিক্ষক হচ্ছেন মঞ্জু হাফিজ। তিনি তাঁর দক্ষিণ পূর্ব লন্ডনের এ্যাসবোর্ন রোডের বাড়িতে শুধু তাঁর সাথের জোড়া নৃত্যকারির সাথে রিহাসের্লের ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০/১২ জনের সম্মিলিত নৃত্যের রিহাসের্লের ব্যবস্থা তাঁর বাড়িতে সম্ভব হবে না। এটা নিয়ে যখন সমস্যা চলছিলো তখনই লিলি খান পূর্ব লন্ডনের ম্যাইডাল স্ট্রিটের একটা স্কুল, তখন এশিয়ান সেন্টার নামে পরিচিত সেই স্কুলের ছোট একটা হলে রিহাসের্লের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দিলেন। শেষ পর্যন্ত সেইখানেই ব্যবস্থা হলো। এই সেন্টারে অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডও চলতো।

অমর বোস নামক একজন পশ্চিম বাংলার ভদ্রলোক ঐ একই স্থানে নাটক শিক্ষা দেওয়ার ক্লাশ করাতেন। দেখা গেল, তিনি বেশ কিছুদিন থেকে ‘সিরাজদৌলা‘ নাটকের রিহার্সেল দিচ্ছেন। সেই নাটকে অংশগ্রহণকারি আসাব আহমদ,এখলাস উদ্দীন,আলতাফ হোসেন নৃত্যনাট্যে অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। বলা বাহুল্য,এই নৃত্যনাট্যে অংশগ্রহণকারিদের  এমন কেউই ছিলো না- যার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। একমাত্র মঞ্জু হাফিজ  ছিলেন পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মঞ্চে অপেশাদার নৃত্যশিল্পী। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে এই অনভিজ্ঞদের শিক্ষা দিয়ে মঞ্চে নৃত্য করার মতো উপযোগী  কওে তোলা নৃত্য পরিচালক মঞ্জু হাফিজের পক্ষে কত কষ্টকর ছিলো। কিন্তু সকল যোগদানকারির অদম্য ইচ্ছা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে  একটা  কিছু করার উতসাহ  শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে একটা বিশেষ নৃত্য গ্রুপে পরিণত করেছিলো। তখন মনে হচ্ছিল, যারা নাচতে জানে না, মুক্তিযুদ্ধ তাদের নৃত্যশিল্পী বানিয়েছিলো। আর যারা গাইতে জানে না তাদেরে গান গাইতে বাধ্য করেছে।

যখন এই গ্রুপ রিহার্সেলের মাধ্যমে মঞ্চে যাওয়ার উপযোগী হলো তখন তারা সারা ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠান করে  সাধারণ প্রবাসী জনতার মানসিক অবস্থা সমুন্নত রাখতে সাহায্য করেছে। অনেক সুনামও অর্জন করেছিলো এই নৃত্যনাট্য গ্রুপ। চলবে