মুদ্রা পাচারে এনবিআরের প্রথম মামলা, এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

62

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১৬ জুন: তৈরি পোশাক রপ্তানির নামে ১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম নামের এক গার্মেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্ষমতা পাওয়ার পর এটাই মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনের প্রথম মামলা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

মুদ্রা পাচারের ঘটনাগুলো আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভুক্ত ছিল। কয়েক মাস আগে আইন সংশোধনের পর তা রাজস্ব বোর্ডের অধীনে আসে।

ব্যবসায়ী শহিদুলের বিরুদ্ধে বুধবার বিকালে মতিঝিল থানায় মামলাটি করা হয়। তিনি এসএন ডিজাইন লিমিটেডের মালিক।

মইনুল খান বলেন, “আসামি শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই ঘটনায় শহিদুল ছাড়াও অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতার ঠিকানায় কারখানাটির অস্তিত্ব পাননি এনবিআর কর্মকর্তারা। শহিদুলের বাড়ির ঠিকানা উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কে।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, শহিদুলের গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ থেকে ২০১৫ মেয়াদে পাঁচ বছরে ২৯৭টি চালান বিদেশে পাঠালেও রপ্তানির বিপরীতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনেনি।

মইনুল খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৭টি চালানের কন্টেইনার রপ্তানি করার প্রাক্কালে আটক করে। এরপর কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় ব্যাংকের ইএক্সপি ফর্ম ও এলসি জাল করে এসব কন্টেইনার রপ্তানি করার চেষ্টা হয়েছে।

“কাস্টমসের এসাইকুডা সিস্টেম থেকে গত পাঁচ বছরের হিসেব নিয়ে দেখা যায় এর আগে ২৯০টি চালানের কন্টেইনার রপ্তানি করেছে ব্যাংকের কাগজ জাল করে।”

নিজেদের সোনালী ব্যাংকের ঢাকার মতিঝিল শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের  ঢাকার গুলশান শাখা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এই জালিয়াতি করে, বলেন মইনুল।

“রপ্তানির শর্ত অনুযায়ী এসব রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এই মুদ্রা বিদেশে অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে ট্রান্সফার করা হয়েছে।”

এসব কনটেইনারে নানা ধরনের তৈরি পোশাক ফিলিপিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হয়েছে বলে জানান মইনুল।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সংশোধনের পর ক্ষমতা পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটিতে বাদী হয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার।

মইনুল খান বলেন, মামলাটি হয়েছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ২(শ) (১৮) এ, যা একই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। এই মামলাটি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক তদন্ত করা হবে।

তিনি জানান, আদালতে দোষ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বনিম্ন ৪ বছর ও সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। একইসাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।

মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুল্ক কর্মকর্তারাই মামলাটির তদন্ত করবে। তারা থানা পুলিশের কোনো সহায়তা চাইলে সেটি দেওয়া হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম