মাহফুজ আনামের ভুল, রাষ্ট্রদ্রোহ

215

জায়েদুল আহসান পিন্টু

পেন্ডোরার বক্স খুলেছেন মাহফুজ আনাম। প্রায় আট বছর আগে তার প্রকাশিত ও সম্পাদিত নন্দিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা সূত্রবিহীন কিছু সংবাদ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করেছেন। সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রকাশিত ওইসব সংবাদ প্রকাশে ভুল স্বীকার করে তিনি আরও কিছু প্রশ্নের উদ্রেক ঘটানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। যে প্রশ্নগুলো আমাদের অনেক আগেই করা উচিত ছিল। জবাব পাই আর না পাই, আজ আমরা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা করছি, ৫ বা ৭ বছর পর নিশ্চয়ই আমাদের কেউ সত্য স্বীকার করে তা তুলে ধরবেন। কারণ আমরা আজ ভীত অথবা দলদাস, আজ সত্য বলার সাহস আমাদের নেই।

‘ভুল’ স্বীকার করে সত্য প্রকাশের দায়ে মাহফুজ আনামকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এর পরেই আমরা দেখতে পাই সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় সাংসদরা সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে মাহফুজ আনামের পদত্যাগের দাবি তোলেন। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে তার বিচার করার দাবি করেন। ছাত্রলীগও রাস্তায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় তার নামে মানহানির মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিএনপিও। দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেড় যুগ আগের উদাহরণ টেনে বলেন ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছিল-ট্রিবিউট টু জিয়া। সাম্প্রতিককালে দেখি শহীদ জিয়াকে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত করে ওই পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটা কেন করেন, কী উদ্দেশ্যে করেন, আমরা জানি না।’

এই ইস্যুতে অন্যান্য সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ভূমিকা যতটা না একাডেমিক ততটাই রাজনৈতিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

মাহফুজ আনাম যে সময়ের রিপোর্ট প্রকাশের কথা বলে আজ কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যে কারণে এখন তার ২৫ বছরের পুরনো দৈনিকটি বন্ধ এবং তাকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে, মাহফুজ আনাম যে সম্পাদক সংগঠনের নেতা সেটিও নিশ্চুপ রয়েছে। যখন একজন সম্পাদককে হয়রানি করা হয় তখন যদি অন্য সম্পাদকেরা চুপ থাকেন তাতে বোঝা যায়, সাংবাদিকতা কতটা স্বাধীন বা কতটা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ বা কতটা দলীয় রাজনীতির কাছে আপসকামী।

ডেইলি স্টারে ওইসব দ্বিতীয় সূত্র দিয়ে অনুমোদিত নয় এমন কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশের দায় কিছুটা আমারও রয়েছে। সে সময়টায় আমি ছিলাম ডেইলি স্টারের রিপোর্টিং বিভাগের প্রধান। ওই সব রিপোর্ট আমরা কীভাবে পেয়েছি সেই ইতিহাসের পুরোটা প্রকাশের সময় এখনো আসেনি। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেটা গ্রহণ করার মতো মানসিকতা তৈরি হয়নি বা আমরা গড়ে উঠতে দেইনি। মাহফুজ আনাম এক চিলতে সত্য প্রকাশ করায় যেসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখছি সব সত্য গ্রহণের শক্তি যে আমাদের নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ওই সময় প্রতিদিনই কোনও না কোনও ‘ওহি’ নাজিল হতো। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো সংবাদ আমরা শুরুতে বাস্কেটেই ফেলে দিতাম। এরইমধ্যে শুনি আজ অমুক সম্পাদককে ডেকে নিয়ে ডিজিএফআই অপমান করেছে। অমুক সম্পাদককে ৪ ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছেন। চোখ বেঁধে অনেক রিপোর্টারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরও পাই। আবার কোনও কোনও সম্পাদক প্রতিদিন ডিজিএফআই কার্যালয় রজনীগন্ধায় হাজিরা দেন, এসব খবর চারদিকে চাউর হয়ে যায়। এরইমধ্যে একদিন ডেইলি স্টার এর একজন কন্ট্রিবিউটারকে তুলে নিয়ে যায় ডিজিএফআই। তার ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। বিভিন্ন রাষ্ট্রের দূতরা তার খোঁজ-খবর নেন। সরকারপ্রধানও বিষয়টি অবহিত হন। তাঁরও যেন করার কিছু নেই। অবশেষে সারাদিন দেন-দরবার করে বাধ্য হয়ে চার লাইনের লিখিত একটি বিবৃতি দিয়ে মাহফুজ আনাম তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এমনই প্রেক্ষাপটে ডেইলি স্টারের নীতি-নির্ধারণীর নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। বিবৃতির বিষয়ে মাহফুজ আনাম জানান, ওই ছেলেটার শারীরিক নিরাপত্তাই তার কাছে মুখ্য। নীতি-নির্ধারণী বৈঠকগুলোতে অন্যান্য সংবাদপত্রে ডিজিএফআইয়ের পাঠানো সংবাদ বিভিন্ন কাগজে প্রকাশ নিয়েও আলোচনা হতো। সবাই এটা নীতি বিবর্জিতই মনে করতাম। কিন্তু ওই কন্ট্রিবিউটারকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করার পর মাহফুজ আনামের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। তিনি দু-চারটি ‘ওহি’ প্রকাশের অনুমোদন দেন।

 

ডিজিএফআইয়ের দেওয়া স্বাক্ষরবিহীন লিখিত তথ্য বা অডিও সিডির ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশের কথা স্বীকার করার মধ্য দিয়ে আরও কিছু প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন, দ্বিতীয়ত তখন রাজনীতিবিদের চরিত্র হননের চেষ্টা হয়েছে, তৃতীয়ত তারা যেসব অডিও সিডি দিয়েছে তাতে রাজনীতিবিদদের স্বকণ্ঠে দেওয়া জবানবন্দি ছিল। যারা আজ সংসদে মাহফুজ আনামের বিচার দাবি করছেন সেই রাজনীতিবিদরা জবানবন্দিতে হয় সত্য বলেছেন, নয় তারা টিএফআই সেলের চাপে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সত্যটা হলো তারা বলেছেন। আর গণমাধ্যম সেটা শুনে রিপোর্ট করেছে। চতুর্থত, ইউটিউবে এখনো সেসব অডিও পাওয়া যায়। কারা ইউটিউবে দিয়েছে? আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারার ব্যবহার কোথায়? পঞ্চমত, রাজনীতিবিদরা এখনো বলেনি তারা টিএফআই সেলে কোনও জবানবন্দি দেননি অথবা তারা চাপ সইতে পারেননি। তাই যদি হয়, সাংবাদিকরা চাপ সইবেন এমনটি আশা করা হচ্ছে কেন?

 

ওই সময়ের সংবাদপত্রের আধেয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা খবর দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম রীতিমত প্রতিযোগিতা করে প্রকাশ করেছে। কেউ ভয়ে ছেপেছে, কেউ অতি উৎসাহে ছেপেছে। সময়টা কিন্তু ছিল জরুরি অবস্থা। মুক্ত সাংবাদিকতার সুযোগ ছিল না। জরুরি বিধিমালায় বলা ছিল, সরকারবিরোধী যেকোনও তথ্য, সংবাদ, সম্পাদকীয়, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, টকশো, আলোচনা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সরকার চাইলে যেকোনও বই-পুস্তক সংবাদপত্র বা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধও করে দিতে পারবে। সরকার ওই ধারা ব্যবহারও করেছে।

 

এখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়ও মুক্ত কী ধরনের সাংবাদিকতা আমরা করছি? যেসব রিপোর্ট প্রকাশের দায়ে আজ মাহফুজ আনামের দিকে তীর ছোড়া হচ্ছে সেই ধরনের রিপোর্ট আমরা এখনো গণমাধ্যমে দেখি। ‘সূত্র জানায়’ বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। বিশেষ করে কাউকে আটক করা হলে রিমান্ডে তিনি কী কী বলছেন তার সবই ‘সূত্র জানায়’ বলে উল্লেখ করা হয়। তেমনি টিএফআই সেলে কে কী বললেন না-বললেন সেটিও সূত্র জানায় বলে প্রচার করা হয়। তেমনি রাজনীতিবিদরা টিএফআই সেলে কে কী বলেছেন সেটির অডিও সিডি শুনে গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছে। আমি বলছি না যে ডিজিএফআই’র দেওয়া তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করা সঠিক হয়েছে। সেটা সাংবাদিকতার নীতি বিরুদ্ধে কাজই হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে রাজনীতিবিদরা ওই জবানবন্দি দিয়েছেন সেটাও সহজে অনুমেয়। আমি বলছি এই চর্চা আগেও ছিল, এখনো চলছে। যেমন কিছুদিন আগে মাহমুদুর রহমান মান্না আর সাদেক হোসেন খোকার টেলিসংলাপ শুনে রিপোর্ট করা হয়েছে। টিভিগুলো ওই সংলাপ প্রচার করেছে। ওই সংলাপ কোনও মিডিয়া কি গোপনে রেকর্ড করেছে? যারা ওই সব ট্রান্সক্রিপ্ট ছেপেছেন তারা কি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছিলেন?

 

আট বছর পর মাহফুজ আনাম স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ওই রকম কিছু রিপোর্ট প্রকাশ করে ভুল করেছেন। এখন সংসদে তার বিচার দাবি করা হচ্ছে। বিচার্য বিষয় হতে পারতো কারা রাজনীতিবিদদের বিনা মামলায় ধরে নিয়ে গিয়েছিল, জোর করে কেন স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল আর সেই স্বীকারোক্তি ছাপতে সাংবাদিকরা কেনইবা বাধ্য হয়েছিল? বোধ হয়, এই সংসদে এ বিষয়ে কোনওদিন আলোচনাও হবে না।

 

তবে ৩৫০ জনের মধ্যে একজন সাংসদ সংসদে বলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তাহজীব আলম সিদ্দিকী। তিনি যখন বললেন, ‘মাহফুজ আনামকে নিয়ে আমি কথা বলব না। কারণ, সেদিন ভয়ে অনেকে বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন। আজকে এই সংসদে সদর্পে বসে আছেন যারা, তাদের অনেকেই সেদিন বাধ্য হয়ে বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়ে সত্যের অপলাপ করেছিলেন।’ স্পিকার তাকে আর এগুতে দেননি। সেদিনই যদি স্পিকার তাকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দিতেন তাহলে ইতিহাসের অনেক অন্ধকার দিক উম্মোচিত হতো। হয়তো কখনো হবে। কারণ ইতিহাসের অন্ধকার দিক উন্মোচনে সময় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

 

এখন তো বলতেই হয় হায় সেলুকাস! যারা জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তারাই আজ সেটি প্রকাশকারীর বিচার চাইছেন। জোর করে জবানবন্দি আদায়কারীর বিচার চাইছেন না।

 

মাহফুজ আনামের অপরাধটা হলো তিনি ডিজিএফআই’র সরবরাহ করা সংবাদ ছেপে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ভেঙেছেন। একজন সাংবাদিক কখনোই চাইবেন না ক্রসচেক করা ছাড়া কোনও সংবাদ প্রকাশ হোক। এ নিয়ে একাডেমিক আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেটি না হয়ে, মুখ্য হয়ে ওঠলো রাজনীতি। তার বোধ হয় নেপথ্য কারণও আছে। মাহফুজ আনাম জরুরি অবস্থার সময়ের সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি রাজনৈতিক সংস্কার চেয়েছিলেন। তিনি কি শুধু গোয়েন্দা সংস্থার দু-চারটি রিপোর্টই ছেপেছেন? তিনি যে জরুরি অবস্থার দুই বছরের দুই শতাধিক সম্পাদকীয় লিখেছেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পক্ষে। সেটি কি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে? তিনি দিনের পর দিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে চলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে নিরন্তর লিখে যাচ্ছেন, সুশাসনের কথা বলছেন, আমরা তার সামগ্রিকভাবে বিচার করবো নাকি দু-চারটি রিপোর্ট প্রকাশের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো? মাহফুজ আনাম যা ছেপেছিলেন, ওই একই রিপোর্ট ছেপেছেন এমন একজন সম্পাদকও আছেন মন্ত্রিসভায়। অমন সম্পাদকদের অন্তত দুজনকে এই সরকার একুশে পদকও দিয়েছে।

 

রাজনৈতিক সংস্কারের কথা যদি বলা হয়- সেটি কে না চেয়েছেন? জরুরি অবস্থার সময় রাজনৈতিক সংস্কার তো দুই দলের অনেকেই চেয়েছেন। তাদের অনেকেই কি আজ ক্ষমতায় নেই? মাহফুজ আনামের রাজনৈতিক বাসনা ছিল কি ছিল না, থাকলে সেটা ভুল ছিল কিনা, সেই বিচার ইতিহাস করবে। কিন্তু আমরা সাংবাদিকেরা কি আজ তার মনের হদিস করে বিচার করতে বসবো? জরুরি অবস্থার শুরুতে কে ওই সরকারকে সমর্থন দেয়নি? ২০০৬ এর অক্টোবরের শেষে প্রকাশ্যে পিটিয়ে রাজনৈতিক হত্যা, এরপর ইয়াজউদ্দিনের ইয়েসউদ্দিন হয়ে ওঠায় যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তা নতুন করে বলা বাহুল্য হবে। এটা ঠিক মাহফুজ আনাম রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলেছিলেন। সেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কি এখন ফুরিয়ে গেছে?

 

যখন দলীয় নেতাকর্মীরা দলের প্রধান নেত্রীদের কাছে যেতে পারতেন না, সুধা সদন আর ক্যান্টনমেন্টের বাসায় শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া কার্যত বন্দি। তখন আমার সুযোগ হয়েছিল সব গোয়েন্দাদের বাধা অতিক্রম করে দুই নেত্রীর সাক্ষাৎকার গ্রহণের। তার অন রেকর্ড বলেছিলেন, সংস্কার তারাও চান। শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি নিজেই দলের নেতাদের চেয়ে বেশি সংস্কার চান। আর খালেদা জিয়া যেকোনও সংস্কার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। যে কেউ অনলাইনে ১৭ জুন ২০০৭ এর ডেইলি স্টারে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারটি এখনো পড়তে পারেন, যার শিরোনাম ছিল-হাসিনা ওয়ান্টস রিফর্মস ডিপার দেন হার পার্টি লিডারস ডু। আর ১৯ জুন প্রকাশিত খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ছিল- খালেদা ওয়েলকামস রিফর্ম প্রপোজালস।

 

সেই সময় রাজনীতিকদের কী ভূমিকা ছিল, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কী ভূমিকা ছিল, সম্পাদকদের কী ভূমিকা ছিল সবই আজ গবেষণার বিষয়। কার কী দায়, এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণও হতে পারে। মাহফুজ আনাম ভুল করেছেন, ক্ষমাও চাইতে পারেন। রাজনীতিবিদ যারা নির্যাতিত হয়েছিলেন তারাও প্রতিকার চাইতে পারেন,  সামরিক গোয়েন্দাদের যারা এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছিলেন তাদেরও বিচার হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় কী কী কারণে জরুরি অবস্থা জারি করতে হলো সেই দায় কি নিরূপণ করা হবে? সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্র বন্ধ করা বা এর সম্পাদকের বিচার চাওয়ার মধ্য দিয়ে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে তা কি অশনি সংকেত নয়?

 

 

লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দেশ টিভি