‘তৃতীয়বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ ’১০ – : মাহমুদ এ রউফ

218

বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতিক,কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ দেশে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে যুক্তছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের  সক্রিয়  কর্মী ও ছাত্রনেতা। সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মদনমোহন  কলেজের শিক্ষার্থী  ছিলেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে লন্ডনে আসেন ষাটের দশকের  শেষার্ধে। জড়িয়ে পড়েন বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিলেত হয়ে ওঠে তৃতীয় রণক্ষেত্র। মাহমুদ এ রউফ বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তাঁর  লেখনিতে উঠে আসছে  ‘তৃতীয় বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ‘।

বিলেতবাংলা২৪.কম ধারাবাহিক প্রকাশ করছে বিলেতে বাঙালির প্রত্যয়দীপ্ত এই আগুনঝরা দিনের ইতিহাস। প্রতি সপ্তাহে  থাকছে ‘তৃতীয়বাংলায়  মুক্তিযুদ্ধ ‘।-নির্বাহী সম্পাদক।

১০ম কিস্তি

প্রথম বাংলাদেশ মিশন-বাংলাদেশ সেন্টার

আন্দোলন যতই ধীরগতি হউক বা মুক্তিযুদ্ধের সাহায্যের জন্য অর্থাগমণ যতই সংকুচিত হউক বা আন্দোলনকারী সাধারণ জনতার উতসাহ যতই ভাটা পড়ুক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার একটা কেন্দ্রীয় স্থান প্রয়োজন। অফিস একটা স্থাপন খুবই অপরিহার্য। বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় অফিস হওয়াও বাঞ্চনীয়। পূর্ব লন্ডনের ১১ গোরিং স্ট্রিটে একটা জায়গাও পাওয়া গেল। মে মাসের ৩ তারিখে স্ট্রিয়ারিং কমিটির অফিস গোরিং স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠিত হলো। কিন্তু আন্দোলন যখন চলতে থাকলো এবং স্থায়ীভাবে অফিস খোলার প্রয়োজনবোধ হলো তখন অন্যত্র জায়গা খোঁজা শুরু হলো। বিশেষ করে বাংলাদেশের  ব্রিটিশ বন্ধুদের সাহায্য তখন খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে গেল।

লন্ডনে ‘ওয়ার অন ওয়ার‘এর চেয়ারম্যান ডোনাল্ড চেসওয়ার্থ সাহায্যে এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে, পূর্ব লন্ডনে অবস্থিত ‘টয়েনবি হল‘-এর ওয়ার্ডেনও ছিলেন তিনি। মি: চেসওয়ার্থ তখন ‘টেক এইচ‘ নামক  প্রতিষ্ঠানের একটা ভবন লন্ডনের ২৪ নং পেম্ব্রিজ গার্ডেন নাম মাত্র ভাড়ায় ব্যবস্থা করে দিলেন। সেখানে ২৭ আগস্ট লন্ডনের বাংলাদেশ মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

ঘোষণা  করা হয় যে, এই অফিসে বাংলাদেশ মিশনের অফিসিয়াল সব কাজের জন্য সরকারের অফিসাররা কাজ করবেন। আর ১১ নং গোরিং স্ট্রিটে বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা তাদের কাজকর্ম চালাবেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ২৪ নং পেম্ব্রিজ গার্ডেন থেকে যখন বাংলাদেশ হাইকমিশন বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত করা হলো তখন এই ভবনটাকে ক্রয় করে বাংলাদেশের জন্য রেখে দেয়ার প্রস্তাব আসলো। অর্থাভাবে তখন  এ ভবনটি ক্রয় করা সম্ভব হলো না। ভাড়া-বাড়ি হিশেবে ভবনটি বাঙালিদের অধীনেই রাখা হলো। ভবনটির নাম দেয়া হলো বাংলাদেশ সেন্টার। মূলত বাংলাভাষা শিক্ষা দেয়া ও বাংলা সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিশেবে তা নির্দিষ্ট হলো। একাধারে বাঙালিরা একটা কমিউনিটি  সেন্টার হিশেবেও এই ভবনটি ব্যবহার করতে থাকেন।তবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন এই ভবনেই কাজ চালিয়েছে।

১৯৮৩ সালে ‘টক এইচ‘ ১৬৫ হাজার পাউন্ডে ভবনটি বিক্রি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি যাতে বাঙালির হাতছাড়া না হয়, সেজন্য ততকালিন অপেক্ষাকৃত বিত্তবান  ও  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রবাসী বাঙালিরা এগিয়ে এলেন। তাদের মধ্য থেকে ২৫০০পাউন্ড  করে  তিনটি কর্পোরেট সদস্য মোট ৭৫০০ পাউন্ড দিলেন। তারা হচ্ছেনÑলন্ডনের সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন ও ‘টক এইচ‘। তার সাথে প্রবাসী বাঙালিরা ব্যক্তিগতভাবে ১হাজার পাউন্ড করে আরো ২৯ জন ২৯ হাজার পাউন্ড প্রদান করেন। ততকালিন বাংলাদেশ সরকার আরো ১৩০ হাজার পাউন্ড অর্থ যোগান দিয়ে ভবনটি ক্রয় করেন। যারা ১৯৮৩ সালে ১হাজার পাউন্ড জনপ্রতি অর্থ প্রদান করে অবদান রাখেন তাদেরকে  বাংলাদেশ সেন্টারের ‘প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি‘  হিশেবে গণ্য  করা হয়। ভবনটি কেনার পর পরবর্তীতে ভবনটির মেরামত ও আধুনিকীকরণের জন্য আরো অর্থের প্রয়োজন হয়। প্রায় বছর দশেকের মাথায় আবার ১ হাজার পাউন্ড করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থের ব্যবস্থা করা হয়। এতে  আরো ৯৩ জন প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিত্তশালী অবদান রাখেন। যেহেতু এই ৯৩ জন কয়েক বছর পর ১ হাজার পাউন্ড করে  অনুদান প্রদানের মাধ্যমে অবদান রাখেন তাদেরকেও ‘স্থায়ী ট্রাস্ট্রি‘ হিশেবে আখ্যায়িত বা গণ্য করা হয়েছে। এই দুই ধরনের ট্রাস্ট্রিদের নাম বাংলাদেশ সেন্টারের প্রবেশ হলের দেয়ালে বোর্ড লেখা আছে। যেহেতু, অধিকাংশ অর্থের যোগান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, তাই বাংলাদেশ সেন্টারের কার্যনিবাহী কমিটির স্থায়ী আজীবন সদস্য হচ্ছেন সরকারের প্রতিনিধি  লন্ডনে নিযুক্ত হাইকমিশনার।

বাংলাদেশ সেন্টারের ২৯ জন ফাউন্ডার ট্রাস্টিরা হলেন ১. বশির উদ্দিন আহমেদ,২. আলহাজ মিম্বর আলী,৩.আলহাজ রাকিব আলী,৪. ড. বেনুভূষণ চৌধুরী,৫.আবদুল কাহির চৌধুরী, ৬. আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, আবুল কালাম শামসুদ্দিন চৌধুরী,৮ খলিলুর রহমান চৌধুরী, ৯. শামসুল আলম চৌধুরী,১০. আলহাজ খন্দকার ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী,১১. আলতাফ হোসেইন (আশু মিয়া), ১২. ওবায়েদ জায়গীরদার, ১৩. আবদুল কাদির,১৪.মোহাম্মদ আবদুল খালিক, ১৫. আতাউর রহমান খান, ১৬.আলহাজ আবদুল মতিন, ১৭.আলহাজ হাফিজ মজির উদ্দিন, ১৮, আলহাজ তারা মিয়া খান, ১৯. মোহাম্মদ ইয়াওর মিয়া, ২০. মোহাম্মদ আবদুল মতলিব, ২১. আনসার রহমান,২২. মামুন রহমান, ২৩. মুন্নি রহমান, ২৪. তৈয়্যবুর রহমান, ২৫ আলহাজ মোহমাম্মদ আবদুর রকিব, ২৬, সুলতান  মাহমুদ শরীফ,২৭. আলহাজ শামসুদ্দিন,২৮.আলহাজ মোহাম্মদ নজিব উল্লাহ  ও ২৯. নাজমুল হাসান জাহেদ।

৯৩ জন স্থায়ী সদস্য: ১.ইকবাল আহমেদ ওবিই,২.মুকিম আহমেদ,৩রাশিদ আলী,৪.আলহাজ মোহাম্মদ উস্তার আলী,৫. আলহাজ উস্তার আলী,৬.কাজী আবদুল বারী, ৭. আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, ৮.আনা চৌধুরী,৯.আতাউর রহমান চৌধুরী,১০.মহিব উদ্দিন চৌধুরী,১১.এস এম আবুল হাশেম,১২.হাজী মোহাম্মদ আবদুল হাশিম,১৩.আলহাজ নুরুল হক লালা মিয়া,১৪.লোকমান হোসেইন,১৫নুরুল ইসলাম,১৬.আবদুল কাহির,১৭.আতিকুর রহমান খান,১৮.শামসুদ্দিন খান,১৯.আলহাজ আবদুল মান্নান,২০. কুনু মিয়া,২১.লিল মিয়া,২২.আলহাজ মানিক মিয়া,২৩.এম সি মিয়া,২৪.হারুন মিয়া,২৫.মোস্তফা মিয়া,২৬.মাহবুব উদ্দিন মোল্লা,২৭.আবদুল কাউয়ূম,২৮.মোহাম্মদ আবদুল রহিম,২৯.মোহাম্মদ আবদুর রহিম খালিক,৩০.এমদাদুর রহমান,৩১.মাহমুদ এ রউফ,৩২.আবদুস সালিক,৩৩.নাসির আলী শাহ,৩৪. শফিক রহমান শাহজাহান,৩৫.কাজী নাজিম উদ্দিন,৩৬. কবির উদ্দিন,৩৭.আলহাজ মনির উদ্দিন, ৩৮. অগিদ উদ্দীন,৩৯.এ কে এম ফজলুল হক,৪০.মনির উদ্দীন আহমেদ,৪১.আলহাজ সিরাজুল ইসলাম,৪২.আকলিছ চৌধুরী,৪৩.মোহাম্মদ গয়াছ মিয়া,৪৪. রেদওয়ানুল হক,৪৫.নজমুল ইসলাম নুরু,৪৬. আশরাফ উদ্দীন,৪৭.মোহাম্মদআবদুল মতলিব,৪৮.আলহাজ মনজির আলী,৪৯.মহিবুর রহমান মহিব,৫০.মোহাম্মদ আবদুল রহিম,৫১.কমর উদ্দিন,৫২.মোহাম্মদ আবদুল মালিক,৫৩.পারভেজ আহমেদ,৫৪.এ শহীদ,৫৫.মোহাম্মদ আবদুন নুর (নুর মিয়া),৫৬.আকিকুর রহমান,৫৭.খন্দকার মহি উদ্দীন,৫৮.খালেদ চৌধুরী,৫৯. রিয়াজ উদ্দীন,৬০.সেলিম উদ্দীন,৬১.মিসবাহউল জামাল ইসলাম,৬২.ডা. হালিমা বেগম আলম,৬৩. আবদুল মতিন চৌধুরী,৬৪.ফকরুল মোহাম্মদ ইসলাম,৬৫.মোহাম্মদ হোসেইন রহমান,৬৬.মোহাম্মদ আবদুল বাসিত, ৬৭. আলতাফ হোসেইন (বাইস), ৬৮. এ টি ইউ তাজ রহমান,৬৯. আলহাজ মানিক মিয়া,৭০. কাজ আবদুল খালেদ,৭১. ফয়সল আহমেদ,৭২.জালাল হোসেইন খান মিয়া,৭৩. আজমল হোসেইন, ৭৪.শাহনুর খান,৭৫.এ কে এম আবদুল্লাহ,৭৬.জবরুল ইসলাম,৭৭. আমিন আলী,৭৮.তারাউল ইসলাম,৭৯.দরস আহমেদ,৮০.মোহাম্মদ শাহিদুর রহমান,৮১.এ কে এম সামসুজ্জামান,৮২.নাসিম আহমেদ,৮৩.ইকবাল হোসেইন বুলবুল,৮৪.আমিরুল চৌধুরী ,৮৫. দিলওয়ার হোসেইন,৮৬.শামসুল ইসলাম সেলিম,৮৭.নুরুল করিম,৮৮. ওলি খান, ৮৯.আবদুল হাফিজ,৯০. এইচ এম শাহাব উদ্দীন,৯১.প্রফেসর এ কে শাহিদুর রহমান,৯২. ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেইন, ও ৯৩. সানওয়ার চৌধুরী। চলবে।