নাটোরে স্ত্রী’কে দাফনের সময় স্ত্রীর ফোন!

89

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৯ মে: নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে নিজের স্ত্রী ভেবে গলাকাটা এক নারীর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর দাফনের সময় স্বামীর কাছে ফোন আসে আসল স্ত্রীর। এমন ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কাটাশকোল গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে নিজের স্ত্রী ভেবে গলাকাটা আরেক নারীর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে নজরুল। সেই লাশ ঘিরে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা আহাজারি করছিলেন। লাশ দাফনের জন্য কবর খনন করা হয়। এমন সময় নজরুলের মুঠোফোনে ফোন আসে তার স্ত্রীর কাছ থেকে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনা বেগম জানান, গত বুধবার বাগাতিপাড়া উপজেলার বিলগোপালহাটি এলাকা থেকে মস্তকবিহীন এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটির কোনো ওয়ারিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল শুক্রবার নজরুল দাবি করেন, লাশটি তার স্ত্রী আশরাফুন বেগমের। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে শুক্রবার বিকালে তাকে লাশ দেওয়া হয়। তিনি লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। রাতে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হয়।

ভাইস চেয়ারম্যান আরো জানান, আশরাফুনের মেয়ে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাতেই ঢাকা থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসে আসার পথে হঠাৎ​ মা আশরাফুনের ফোন পান মেয়ে। মেয়ের কাছে বিস্তারিত জেনে আশরাফুন তার স্বামী ও স্বজনদের কাছে ফোন করেন। পরে সবাই নিশ্চিত হন ওই মস্তকবিহীন লাশটি আশরাফুনের নয়। পরে আজ শনিবার সকালে আশরাফুন বাড়ি ফিরে আসেন। এর পর লাশটি পুনরায় নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

নজরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী আশরাফুন বেগম পাঁচ দিন আগে তার সঙ্গে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ অজ্ঞাত এক নারীর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের খবর পান তারা। এর পর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশটি তার স্ত্রীর বলে মনে হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে আবেদন করে লাশটি বাড়িতে নিয়ে আসেন।

 

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, “এখন মস্তকবিহীন লাশটি দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”