৪ ‘কাজের মেয়ের’ একসাথে আত্মহত্যার চেষ্টা

91

 

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৯ মে: হাবিবুর রহমান বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক। পোস্টিং টাঙ্গাইলে। তবে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান থাকেন মৌলভীবাজার শহরের শাহমোস্তফা গার্ডেন সিটির একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতার জন্য ‘কাজের লোক’ হিসেবে রয়েছে পাঁচ জন। এদের মধ্যে ছয় চার মেয়ে ও এক ছেলে। এদের প্রত্যেকেই কিশোর- কিশোরী।

প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যান হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী। যাওয়ার সময় কাজের লোকদের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে ফ্লাটটি তালাবদ্ধ করে দিয়ে যান তারা।

শুক্রবার (২৭ মে) সকালে ফ্ল্যাটে থাকা চার কিশোরী মধ্যে কথাকাটাকাটির জের ধরে হঠাৎ করেই ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের একজন রাগ করে রান্নাঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকির পর সে দরজা না খোলায় বাকী ৩ কিশোরী আতংকিত হয়ে পরে। ভয়ে তারা নিজেরাও একটি কক্ষে ঢুকে স্যাভলন ও শ্যাম্পু ও ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক দ্রব্য খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করে।

ঘটনা টের পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। এরপর পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে মৌলভীবাজার থানা পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের উদ্ধার করে। কিশোরীদের অসুস্থ অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এদের মধ্যে আমিনা বেগম (১৪), রুবিনা আক্তার (১৬) ও মলি রায় ১৫) নামে তিনজনের অবস্থা আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি অকিল উদ্দিন। তাদের সকলেরই বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকে মৌলভীবাজার শহরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিআরটিএ কর্মকর্তার এই ফ্ল্যাট নিয়েও দেখা দিয়েছে রহস্য। মৌলভীবাজার শহরের সেন্ট্রাল রোড এলাকার বিলাসবহুল আবাসন শাহ মোস্তফা গার্ডেন সিটির ৮ম তলার ‘সি’ ফ্ল্যাটে স্ত্রী নিয়ে থাকেন হাবিবুর রহমান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর মৌলভীবাজার অফিসে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর বদলি হয়ে যান হবিগঞ্জ। সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে টাঙ্গাইল যান তিনি।

 

মৌলভীবাজার চাকুরীকালীন অবস্থায় এই ফ্ল্যাট ভাড়া নেন হাবিবুর। এই ফ্ল্যাটেই থাকেন তাঁর স্ত্রী। ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে থাকতো চার কিশোরী কিশোরী ও এক কিশোর।  চাকুরীর কারণে টাঙ্গাইল থাকলেও সরকারী ছুটির দিনে মৌলভীবাজার এসে নিজেদের ফ্ল্যাটেই থাকতেন হাবিবুর।

 

এই এপার্টমেন্টের অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, এই কিশোরীদের ‘কাজের লোক’ বলে পরিচয় দিতেন হাবিবুর ও তাঁর স্ত্রী। তবে একজন নারী ও দুই সন্তানকে সহযোগিতার জন্য সাত জন কাজের লোক রাখা নিয়ে পুরো এপার্টমেন্টজুড়েই  রয়েছে রহস্য।

 

এই এপার্টমেন্টের দু’জন বাসিন্দা জানান, এই ছেলেমেয়েদের প্রায়ই ফ্ল্যাটে তালাবদ্ধ করে রেখে ঢাকা, টাঙ্গাইল চলে যেতেন হাবিবুর রহমানের স্ত্রী।

 

সন্দেহজনক আচরণের কারণে সম্প্রতি শাহ মোস্তফা গার্ডেন সিটির পক্ষ থেকে হাবিবুর রহমানকে নোটিশ দেওয়া হয় বলে এপার্টমেন্টটির ব্যবস্থাপক বাবলা ভট্টাচার্যের বরাত দিয়ে জানান এক প্রতিবেশী।

 

প্রতিবেশীরা জানান, বৃহস্পতিবার ট্রেনিংয়ের জন্য স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যান হাবিবুর রহমান। চার কিশোরী ও এক কিশোরকে তালাবদ্ধ করে ফ্ল্যাটে রেখে যান।

 

শুক্রবার সকালে এই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। এসময় পুলিশ ও এপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষের সহেযাগিতায় ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙ্গে প্রতিবেশীরা দেখতে পান কিশোরীরা মেঝেতে পড়ে গড়াগড়ি করছে। তাদের মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছে।

 

সাথে সাথেই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি অকিল উদ্দিন জানান,  উদ্ধারকৃত কিশোরীদের প্রত্যেকের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছর। তবে ফ্লাটের মালিক ঢাকা থাকায় বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

 

তিনি বলেন, এই কিশোরীরা বাসার মালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে বিষাক্ত দ্রব্য খাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

 

বিআরটিএ কর্মকর্তা ও অসুস্থ কিশোরীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আসলে এদের আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন ওসি।

 

এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।