গাঁজা আর সেক্স ট্রেড উন্মুক্ত হলেও উচ্ছন্নে যাচ্ছে না ডাচরা

97

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৬ মে: গাঁজা আর সেক্স ট্রেড উন্মুক্ত হলেও উচ্ছন্নে যাচ্ছে না ডাচরা

পৃথিবীর উন্নত ও স্বাধীনচেতা দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডস অন্যতম। নেদারল্যান্ডসে প্রকাশ্যে গাঁজা(মারিজুয়ানা) খাওয়া বৈধ, সেই সঙ্গে সেক্স ট্রেডও প্রচলিত। এতো কিছুর পরও বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে তারা অবস্থান করছে, প্রবাসী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এমনটি জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন।

 

আমিনুল ইসলাম লিখেছেন: দেশটিতে (নেদারল্যান্ডস) আপনি যদি মরে যেতে চান, আর সেই মরে যাওয়ার জন্য যদি আপনি যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে পারেন, তাহলে আপনার মরে যাওয়ার ব্যবস্থাও সরকার করবে। এতেও নেদারল্যান্ডসের মানবাধিকার কর্মীরা সন্তুষ্ট না।

 

২০১০ সাল থেকে তারা আন্দোলন করছে, ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক কেউ যদি জীবনের প্রতি টায়ার্ড ফিল করে তাহলে তাকে মরে যাবার পারমিশন দিতে হবে। এই আন্দোলনে সেই দেশের অনেক এমপি, মন্ত্রীও যুক্ত হয়েছেন। যদিও এটি এখনও পাশ হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটিও এক সময় পাশ হয়ে যাবে।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে নেদারল্যান্ডস এত লিবারেল, যেই দেশে প্রকাশ্যে গাঁজা খাওয়া যায়, সেই দেশের তরুন প্রজন্ম কি তাহলে সবাই গাঁজায় আসক্ত? উত্তর হচ্ছে- না। ইন ফ্যাক্ট নেদারল্যান্ডস হচ্ছে পৃথিবীর সব চাইতে কম মাদক আসক্ত দেশ গুলোর একটি।

 

আর বাংলাদেশে? গাঁজা তো অনেক দিন থেকেই অবৈধ, তবুও ইউনিভার্সিটি হোস্টেল থেকে শুরু করে শহর এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন গ্রামের ছেলেপেলেরাও গাঁজায় আসক্ত। ইয়াবার কথা না হয় আর নাইবা বললাম। নেদারল্যান্ডস এ সেক্স বিজনেসও উন্মুক্ত। দেশটির রেড লাইট স্ট্রীটে আমি নিজে স্বয়ং গিয়েছি। সেখানকার উইন্ডো শপিং জগত বিখ্যাত।

 

অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে জানলার সামনে অর্ধ নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ আবার উন্মুক্ত, পুরো পৃথিবীর থেকে লোকজন সেখানে যায়। তাই বলে কি দেশটির তরুন প্রজন্ম যৌন বিকার গ্রস্ত? উত্তর হচ্ছে, না! নেদারল্যান্ডসের সাধারণ মানুষের ভাষায়- এটি বরং তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। দেশ বিদেশ থেকে লোকজন তাদের দেশে আসছে, অর্থ ব্যয় করছে। এতে তারা আনন্দিত।

 

আর আমাদের দেশে রেড লাইট স্ট্রীট এর কথা চিন্তাও করা যায় না। এটি অতি পবিত্র দেশ! এখানে আবার এসব চিন্তা করা যায় নাকি! তবে আজই পত্রিকায় পড়লাম এক পুলিশ অফিসার, এক বিধবা নারীকে থানায় আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে! এতে অবশ্য কিছু যায় আসছে না! এত সব কিছু উম্মুক্ত করে দেয়ার পরও নেদারল্যান্ডসের মানুষজন বেঁচে থাকতে থাকতে “টায়ার্ড” হয়ে গেলে, মরে যাওয়ার পারমিশনের জন্য আন্দোলন করছে।

 

আর আমাদের দেশ অতি পবিত্র দেশ। এই দেশে কোন কিছুই উন্মুক্ত না। এর পরও এখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করতে করতে আমরা “টায়ার্ড!” এর মাঝে কেউ তনুর মতো ধর্ষিত হয়ে মরে যায়; কেউবা আবার স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তির মতো কান ধরে উঠবস করে বেঁচে থেকেও মরে যায়। এই জনপদে বেঁচে থাকাই জীবনের সব চাইতে বড় সফলতা।