‘শহীদ নিজামী হত্যার বদলা’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিফলেট: আটক ৫, ছাপাখানা সিলগালা

117

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৪ মে:যুদ্ধপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে দিয়ে তাকে  ‘নির্মমভাবে হত্যা করেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে লিফলেটটিতে। এই ‘হত্যার’ বদলা নেওয়ার আহ্বান জনানো হয়েছে লিফলেটে।

মঙ্গলবার এমন উস্কানিমূলক লিফলেট ছাপাকালে সিলেট নগরীর একটি ছাপাখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে বেশকিছু লিফলেট জব্দ করা হয়। সিলগালা করা হয় ছাপাখানাটি। এসময় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা জামায়াত শিবিরের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লিফলেটের শুরুতেই বড় হরফে লেখা রয়েছে- ‘হত্যা করে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্দ করা যাবে না’।

লিফলেটে মতিউর রহমান নিজামী ছাড়াও একই অপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লাকেও ‘হত্যা’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ‘হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘জুলুম’ কোনভাবেই ‘মেনে নেয়া যায় না’ উল্লেখ করে ‘হত্যাকারী জুলুমবা’ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়ঢেছে।

লিফলেটে লেখা হয়েছে, ‘‘একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। এ জুলুমবাজ সরকার একজন আলেমে দ্বীনকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের জমীন থেকে ইসলামী আন্দোলনকে উৎখাত করার জন্য সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’’

‘‘এ হত্যাকাণ্ড এবং জুলুম কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জনগণ কখনো মেনে নেবে না। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী সোচ্চার হয়েছে।’- এমনটি উল্লেখ রয়েছে লিফলেটে।

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল-মারজান শপিং সিটির তৃতীয় তলাস্থ ‘স্টার সিলেট অফসেট প্রিন্টার্স’ নামক ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে এ ধরনের লিফলেট জব্দ করেছে পুলিশ। লিফলেটের প্রচারক হিসেবে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নাম রয়েছে।

অভিযানকালে কোতোয়ালী থানা পুলিশ সাঈদ বক্ত চৌধুরী, সালমান আহমাদ, সুহেল আহমদ, মিসবাউল করিম ও মোনায়েম নামে ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। উস্কানিমূলক প্রচারপত্র ছাপার অভিযোগে ওই ছাপাখানাকেও সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহমদ। ওসি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ছাপাখানায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। জামায়াত-শিবির এই ছাপাখানাটিকে তাদের গোপন কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে।

এছাড়া দুটি কম্পিউটার এবং হার্ডডিস্কও পুলিশ জব্দ করেছে।