ভাটিপাড়া ও জগদল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান

77

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৪ মে: ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নিজ নির্বাচনী এলাকা দিরাইয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান সক্রীয় হয়ে উঠছেন।  উপজেলার ভাটিপাড়া ও জগদল ইউনিয়নে নিজ বলয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে একাধিক সভা ও গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের গলার কাটা ভাটিপাড়া ও জগদল ইউনিয়নের নৌকার ২ প্রার্থীর পক্ষে শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান নিজেই।

শনিবার বার জগদল ইউনিয়নের নগদীপুর হুসেনপুর,জগদল ও রোববার  ভাটিপাড়া ইউনিয়নের শাহ জালার বাজার, দত্তগ্রাম ও আলীনগরে দলীয় চেয়ারম্যান  প্রার্থী হুমায়ুন রশীদ ও জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর সমর্থনে গনসংযোগ করেন তিনি। তার সাথে রয়েছেন, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন।

অপরদিকে এ দুই ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শিবলী আহমদ বেগ (আনারস) ও শাজাহান কাজী’র (মোটর সাইকেল) সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া। জয়ের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন উভয় পক্ষই। ফলে এ দুই ইউনিয়নে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে কৌতুহল পুরো জেলা বাসীর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জগদল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে দলীয় মনোনয়ন দিতে তৃণমূল থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।  কিন্তু কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন রশীদ লাভলুকে। একই অবস্থা ভাটিপাড়া ইউনিয়নেও। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরী হয়। তবে আব্দুস সালাম নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শিবলী আহমেদ বেগকে সমর্থন দিয়েছেন। তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই তার পক্ষে কাজ করছেন। এ অবস্থায় নৌকার প্রার্থী যাকে দেয়া হয়েছে তাকে নিয়ে মাঠে নেই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ৫৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি হয়েছেন ৮ বার। এর মধ্যে ৬ বারই নৌকা প্রতিক মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। কাজেই তিনি নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন এটা কেউই বিশ্বাস করবে না। কারন নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অবমানা করা।  সুরঞ্জিত সেন এ কাজ কখনো করবেন না। এটা প্রদীপ-মোশারফের কারসাজি। এ জন্যে তাদের অনেক মূল্য দিতে হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মতিউর রহমান শুধু দিরাই নয়, যে কোনো উপজেলায় নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে পারেন। তবে শুনেছি তার নিজের বাড়ি দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নে উনার ভাই-ভাতিজাসহ ঘনিষ্টজনেরা প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানকে দায়ি করে বলেন- অসুস্থ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে নিয়ে ভোটের মাঠে তিনি যে ভাবে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করছেন, তার জবার ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

উপজেলা ও তৃনমুল অনেক নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান জনবিচ্ছিন্ন কতিপয় নেতাকে  নিয়ে দলে গ্রুপিং উসকে দিচ্ছেন। তিনি দলীয় কার্যালয়ে না উঠে ডাকবাংলায় উঠছেন কেন তা বোধগম্য নয়। প্রতিবেদনটি রচনা করেছেন দৈনিক উত্তরপূর্ব-এর দিরাই প্রতিনিধি  জিয়াউর রহমান লিটন|