চলে গেলেন বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগম

70

 

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৩ মে:  বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে নারীদের প্রথম সাপ্তাহিক বেগম’র সম্পাদক নূরজাহান বেগম আর নেই। রাষ্ট্রপতি ও প্রধনিমন্ত্রী তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, নূরজাহান বেগমের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি| প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নূরজাহান বেগমের অবদান স্মরণীয়|

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে মৃত্যু হয়েছে তার। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

 

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে গত কিছুদিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ছিলেন নূরজাহান বেগম।

 

তার বড় মেয়ে ফ্লোরা নাসরিন খান বলেন, “উনি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় একটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। ডাক্তাররা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে দ্বিতীয়বার উনার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়।”

 

শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে গত ৪ মে নূরজাহান বেগমকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান তার ছোট মেয়ে রীনা ইয়াসমিন বিথী।

 

মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন।

 

 

দুপুরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পুরান ঢাকার নারিন্দায় নূরজাহান বেগমের বাড়িতে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিকালে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

 

নূরজাহান বেগম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তার খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

নূরজাহান বেগম ১৯২৫ সালের ৪ জুন চাঁদপুরে চালিতাতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ভাগলপুরে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা নেন তিনি।

 

সাহিত্য চর্চায় মেয়েদের জায়গা করে দিতে তার বাবা সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন ১৯৪৭ সালে ‘বেগম’ পত্রিকা চালু করেন। প্রথমে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হলেও দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে পত্রিকাটি ঢাকায় চলে আসে।

 

প্রতিষ্ঠার প্রথম চার মাস পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। এর পর সম্পাদনার দায়িত্বে আসেন নূরজাহান বেগম।

 

. .

বাংলাদেশের নারী সাহিত্যিকদের অনেকের লেখার হাতেখড়ি বেগম পত্রিকার মাধ্যমে।

 

নারীদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা নূরজাহান বেগম এক সাক্ষাৎকারে বলে গেছেন- “বেগমের বাইরে আমি কোনো দিনই কোনো কিছু করার চেষ্টা করিনি। বেগমই তো আমার সারা জীবনের কাজ।”

 

নারী শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে রোকেয়া পদকে ভূষিত হন নূরজাহান বেগম। এছাড়া বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘ, কাজী জেবুন্নেসা-মাহবুবউল্লাহ ট্রাস্ট, রোটারি ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে সম্মাননা জানিয়েছে।

 

১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা রোকনুজ্জামান খানের (দাদা ভাই) সঙ্গে বিয়ে হয় নূরজাহান বেগমের। ১৯৯৯ সালে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।