‘চোরচোট্টার’ টাকা পেলেও সঙ্কট কাটত: শিক্ষামন্ত্রী

93

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১৯ মে: ব্যাংকিং খাতে লুট হওয়া টাকা পেলেও শিক্ষা খাতে বাজেট নিয়ে কোনো সঙ্কট হবে না বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “এখানে খুব সাধারণ ‍উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। যে অর্থগুলো লুটপাটকারীরা খেয়ে গেল সেগুলোকে উদ্ধার করে যদি আমরা শিক্ষায় নিয়ে আসি তাহলে আমাদের শিক্ষার বাজেট বড় হবে। এমনকি আমরা খরচও করতে পারব না।

“সুতরাং আমাদের সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে, যে অর্থ আমাদের চোরচোট্টারা মেরে খাচ্ছে, সে অর্থটা নিয়ে এসেও যদি আমরা শিক্ষায় লাগাতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারি।”

 সেমিনারে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেট: গতি প্রবণতা, বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, “শুধুমাত্র দুর্নীতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করেই আমরা শিক্ষার বর্তমান বাজেটকে কয়েকগুণ বাড়াতে পারি।”

ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১১০০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৪৫০০ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংকের ৪৫০০ কোটি টাকা এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত অবলোপনকৃত ৩৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের উদাহরণ দেন তিনি।

“সরকার কঠোর হলে নতুন কোনো করারোপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে।”

বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ওই সেমিনারে অধ্যাপক আকাশের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ খরচ না হওয়ার প্রসঙ্গে তুলে তিনি বলেন, “এডিপি যখন দেওয়া হয় তখন দেখা যায় অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সেটা খরচ করতে পারে না।

“আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় খরচ করতে পেরেছি। এবারও ৯৯ দশমিক ১৭শতাংশ খরচ হয়েছে। পরপর তিন বছর আমরা ১০৮শতাংশও খরচ করেছি। আমাদের ক্ষেত্রে এই অপবাদটা দেওয়া যাবে না।”

নিজ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ আরও বলেন, “গত বাজেটের ১৫ দিন আগেও বলেছি, আমাকে ১০ হাজার কোটি টাকা দেন। আমি এ সময়ে খরচ করতে পারব। সেই দক্ষতা আমাদের হয়েছে।”

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়নোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে উত্তম বিনিয়োগ। ভবিষ্যতের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, সম্পদ সৃষ্টি এবং সম্পদ সৃষ্টির মানুষ তৈরির প্রয়োজনে এই বিনিয়োগ করা দরকার।”

মুনাফার লোভ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা বললে বড় বড় ব্যবসায়ীরা ভাবলেন, মুনাফার একটা ক্ষেত্র পাওয়া গেল। যে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সেটা চালানো শুরু করলেন। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনসহ বিভিন্নভাবে এগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে কাজ করছি।”

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক আকাশ শিক্ষা খাতে বাজেট ১১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৬ শতাংশ করা, ধনীদের কাছ থেকে বিশেষ শিক্ষা সারচার্জ আদায় এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সুপরিকল্পিত বিকাশের জন্য বর্ধিত অর্থ বরাদ্দসহ ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেন।

বাকবিশিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশ্ব শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম ও বাকবিশিস সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বক্তব্য দেন।