প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর : যেমন বিক্ষোভ তেমন ফুলেল শুভেচ্ছা

125

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১৫ মে: যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিসিক্ত হয়েছেন তেমন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বাকিংহাম গেটের তাজ হোটেলের সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপি পরস্পর মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। উভয় দলের নেতাকর্মীরা লাইভ ফেইসবুক আপডেড দিয়েছেন প্রতি মুহুর্তে। এতে দেখা যায় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ফুল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন।

অপর দিকে যুক্তরাজ্য বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী কালো কাপড় পড়ে নানান রংয়ের বেনার ফ্যাস্টুন নিয়ে হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। উভয় দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ কালে জানাগেছে প্রধানমন্ত্রী যত যুক্তরাজ্যে থাকবেন ততদিন তারাও শুভেচ্ছা ও প্রতিবাদ জানাতে অবস্থান করবেন।

বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য দি গ্লোবাল উইমেন্স লিডারস ফোরাম কনফারেন্স এ যোগদানের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অদ্য রবিবার লন্ডন স্থানীয় সময় ১৫:৫৭ ঘটিকায় হিথরো আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে দুদিনের যাত্রাবিরতীতে যুক্তরাজ্যে অবতরন করেন। তাঁকে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার জনাব মোঃ আবদুল হান্নান এবং লন্ডনস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব সুলতান শরীফ ও সাধারন সম্পাদক জনাব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। তাঁর সফর সঙ্গী হিসেবে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তাঁর দুদিনের যাত্রাবিরতী শেষে আগামী ১৮ মে বুলগেরিয়ার উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করার কথা।

 

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি সভা করে এক দল আরেক দলকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ জুন ৬দিনের সফরে আসলে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় যুক্তরাজ্য বিএনপি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ। প্রধানমন্ত্রীর হোটেলের সামনে বিএনপি যেমন বিক্ষোভ দেখায় ঠিক তেমনি যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের শত শত নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়। এবারের সফরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

এদিকে শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা, হামলা, মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও বিচারিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিএনপি এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রতিবাদকারীরা হাসিনার পতন দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যঙ্গ বিদ্রুপপ পূর্ণ ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

 

 

বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। গণতান্ত্রীক দেশ বৃটেনে কোনো স্বৈরাচারের জায়গা হবেনা। যেখানেই হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ এই মর্মে শপথ নিয়ে কর্মসূচী সফল করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় যুক্তরাজ্য জামায়াত সমর্থক অনেক প্রবাসী। দলটি তাদের আমীরে জামায়াত মাওলানা নিজামীর ফাসির নামে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়। ব্যানার ও ফেস্টুন উঁচু করে প্রতিবাদ জানায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বুলগেরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।

 

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার নারী নেতাদের উপস্থিতিতে ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মূল বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১টায় সোফিয়ায় পৌঁছাবেন শেখ হাসিনার। ওইদিন বিকালে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেনেলিয়েভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।

 

বিকালে উইমেন লিডারস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর রাতে ইউনেস্কো মহাসচিব ইরিনা বোকোভার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।

 

শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তিও হতে পারে।

 

সফর শেষে শুক্রবার রাতে সোফিয়া থেকে রওনা হয়ে শনিবার সকালে ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।