সিলেটে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় ২ হাজার পরিবার

88

 

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২২ এপ্রিল:  অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে বসবাসের পর সিলেটের মেজরটিলা এলাকায় ২ হাজার পরিবারের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক ভর করেছে। জরিপে মেজরটিলা ইসলামপুরের দেবপুর মৌজার বাসিন্দাদের দলিলপত্র নামজারি আমলে না নিয়ে ভূমি খাসখতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত করায় হাজারখানেক ভবন মালিকসহ ২ হাজার পরিবার দিশেহারা। ৩০ ধারায় দেবপুর মৌজার এ ভূমি জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত হওয়া ও ৩১ ধারায় তা বহাল রাখার খবরে আতঙ্কিত ২ হাজার পরিবারের ১০ সহস্রাধিক সদস্যের ‘ঘুম হারাম’ হতে চলেছে।

 

জানা গেছে, দেবপুর মৌজার ৮৯৩ খতিয়ানের ভূমি ১৯৫৬ সালের এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ক্রয়সূত্রে দুই সহস্রাধিক পরিবার ইসলামপুর এলাকায় বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশ ভূমি আইনের যাবতীয় আইন মেনে এ মৌজার বাসিন্দারা ভূমির রেজিস্ট্রারি, খাজনা ও নামজারীসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছিলেন। ২০০৪ সালের ভূমি জরিপে মৌজার বাসিন্দাদের নামে মাঠ পর্চা এবং তসদিক সম্পাদন করা হয়। এ এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। প্রায় ৬০ বছর পর গত বছর ভূমি জরিপের ৩০ ধারায় এলাকার বাসিন্দাদের দলিলপত্র নামজারী আমলে না নিয়ে এই খতিয়ানটি সিলেট জেলা প্রশাসনের (১নং খতিয়ান) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

বর্তমানে চলমান ৩১ ধারা জরিপেও তা বহাল রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তসদিককৃত ভূমি পুণর্বহালের দাবিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, দেবপুর মৌজার ৮৯৩ খতিয়ানের ভূমি যদি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে দুই সহস্রাধিক পরিবার ভূমিহীন-গৃহহীন হয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করবে। দুই সহস্রাধিক পরিবারের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাদেরকে ভূমির প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য করার আবেদন জানানো হয়। প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে চলমান ৩১ ধারা জরিপে দেবপুর মৌজার ৮৯৩ বাসিন্দাদের নামে তসদিক বহাল রাখারও আবেদন জানানো হয়।

 

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে ভোগদখলকৃত এ ভূমিই আমাদের সম্বল। হঠাৎ করে কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় অর্ধ শতাধিক বছর পর ভূমি কিভাবে খাস খতিয়ানে চলে গেলো তা বোধগম্য নয়। দেবপুর মৌজায় ভূমি ক্রয় করে বসবাসকারীদের গৃহহীন, ভূমিহীন হতে হবে।

 

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি আবদুল হামিদ জানান, পেনশনের টাকা দিয়ে এ মৌজায় ভূমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। কেনার আগে সকল কাগজপত্র যাচাই করে সঠিকতা পেয়েই কিনেছি। হঠাৎ করে গত বছর এ মৌজার ভূমি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার খবরে আমার মতো অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বল হারানোর আতঙ্কে রয়েছি।

 

স্থানীয় অপর বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম রোকন জানান, আমরা অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে ন্যায় বিচারের আশায় লিখিত আবেদন করেছি। ১৯৫৬ সালের জরিপি রেকর্ড আমলে নিয়েই প্রায় ২ হাজার পরিবার এখানে বসতভিটা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে ভূমি খাস খতিয়ানে চলে যাওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।

 

খাদিমপাড়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আফছর আহমদ জানান, এলাকাবাসীর একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করবো।