ওয়াসিকুর,অনন্ত, নাজিমরা আর মরে না-যুদ্ধে নামুন, পতাকা তাদেরই হাতে

119

হামিদ মোহাম্মদ

দেখেশুনে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মতো  মুক্তচিন্তার চরম দুরাবস্থা বিশ্বের কোথাও নেই। সিরিয়া,ইরাক ও আফগানিস্তানে বা বিশ্বে অন্যদেশগুলোতে ঘটে যাওয়া ইসলামি উগ্রবাদীদের দ্বারা ঘটিত নানা ঘটনাবলিকে বিশ্লেষণে ব্যস্ত আমরা। কিন্তু ভেবে দেখিনা এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বাংলাদেশে।  প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ঘটছে উগ্রবাদীদের দ্বারা মুক্তচিন্তার  মানুষের উপর আক্রমণ ও জীবননাশ। সরকার বার বার ধামাচাপ দিয়ে যাচ্ছে বা কখনো কখনো উগ্রবাদীদের সাথে সমজোতা করে চলার নীতি এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী। সরকারের  দায়িত্বশীল ব্যক্তি, মন্ত্রী ও পুলিশের বক্তব্য নিয়মিত উগ্রবাদীদের জন্য উতসাহব্যঞ্জক। সম্প্রতি নাজিম উদ্দিন সামাদকে উগ্রবাদীরা জনারণ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করার পর স্বরাষ্টমন্ত্রীর বক্তব্য এর নগ্ন প্রকাশ।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ এইভাবেই কি কাতরাবে? এখন এটাই মুখ্য প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সত্য,কিন্ত উগ্রবাদীদের নির্বিঘœ পদচারণা এটাই প্রমাণ করে  জঘন্য ও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকা এক জিনিস আর জনগণকে জানমালের  নিরাপত্তাদান বা শান্তিতে বাঁচতে  দেয়া অন্য জিনিস। ক্ষমতার জন্য কোনো উগ্র গোষ্ঠীর সাথে সমজোতা বা সয়ে চলা কোনো অর্থেই জনবান্ধব বা দেশপ্রেম নয়। এ ধরনের দেশপ্রেম নিয়ে রাষ্ট্র চালানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শুধু নয় মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা।

বর্তমান সরকারের দায়িত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারি দল আওয়ামীলীগের নিকট দেশ ও জনগণ প্রত্যাশা করে না। যে দল আদর্শ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করতে পারে সেই দল কি বর্তমান আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ চালিত সরকার! বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে বা হচ্ছে দেশবাসীর।

উগ্রবাদীদের আক্রমণে কয়দিন পর পর মুক্তচিন্তার চিন্তক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী চাপাতি,কুড়াল আর আধুনিক অস্ত্রের আঘাতে দিনেদুপুরে আক্রান্ত ও নিহত হওয়ার পর বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়। ঘটনার পর প্রতিবাদে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সরকার জোড়াতালি দিয়ে  দেশবাসীকে বুঝিয়েসুঝিয়ে ঘরে  বসিয়ে দেয়। কষ্ট ভুলে যেতে চেষ্টা করা হয় স্বজনদের মতোদেশবাসীকেও। কিন্ত এটা কি সম্ভব? ভুলে যাওয়া কি যায়?

এটা তো ভুলে যাওয়ার কোনো বিষয় নয়! একাত্তর সালে যদি কিছু ক্ষয়ক্ষতি মেনে সব  আমরা ভুলে যেতাম তাহলে কি স্বাধীনতা পেতাম? পেতাম না।

সুতরাং কোনো সমজোতা নয়, কোনো ছাড় নয়, কোনো আপস নয়-এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত করতেই হবে। স্বাধীনবাংলা বেতারের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান সংগঠক ও উদ্যোক্তা কবি বেলাল মোহাম্মদ প্রায় কুড়ি বছর আগে একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন ‘সামনে আছে দ্বিতীয়  মুক্তিযুদ্ধ‘। এই মহান দূরদর্শী  কবি তাঁর দিব্য চোখ দিয়ে দেখেছিলেন যে যুদ্ধ, সেই মুক্তিযুদ্ধ এখন শুরু করতে হবে।

আপসকামি নেতৃত্ব  থেকে বেরিয়ে নি:শঙ্কচিত্তে এই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে হবে। দাবানল ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে, সব মানুষের মনে ও প্রাণে, বিশ্বাসে এবং সাহসে।  সেই তেজী বীর্যবানরা কই?

নামুন যুদ্ধের মাঠে, রুখে দাঁড়ান শত্রুকে, নিশ্চিহ্ন করতে হবে চাপাতিওয়ালা এই অশুরদের। উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধগোষ্ঠীর স্থান নেই মুক্তিযুদ্ধের রক্তমাখা পবিত্র বাংলার মাটিতে। ওয়াসিকুর,অনন্ত, নাজিমরা আর মরে না, পতাকা তাদের হাতেই।  ৮ এপ্রিল ২০১৬ ,লন্ডন।