লন্ডনে বাউল ও বৈষ্ণব সংগীত উৎসব

122

সুদীপ্তা চৌধুরী

 

ব্রিটেনের  রাধারমণ সোসাইটির আয়োজনে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল ও বৈষ্ণব সংগীতের আসর। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐশ্বরিক ও ইহলৌকিক প্রেম আর অসামান্য মানবিক উপাদানে সমৃদ্ধ বাউল ও বৈষ্ণব সংগীত হলভর্তি  দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। লন্ডনে সংগীতের এই আসর বসেছিল ২৬ ও ২৭ মার্চ।

পূর্ব লন্ডনের কবি নজরুল সেন্টারে শিশুশিল্পী ঈশ্বর শর্মার শ্লোক পাঠ দিয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রথম দিন। একে একে বাউল ও বৈষ্ণব গান পরিবেশন করে শিশুশিল্পী কৃষ্ণ শীল, আনভিতা গুপ্ত ও তানিশা চৌধুরী। বাদ্য যন্ত্রে সহযোগিতা করেন ইয়ামিন চৌধুরী ও জয়দীপ শীল। উৎসবকে উৎসর্গ করে ভালোবাসার কবিতা পাঠ করেন বিখ্যাত কবি ডেভিড লি মার্গন। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয় বাউল শিল্পী এম হোসেইন ও শিল্পী অমল পোদ্দারের কীর্তন দিয়ে। বাউল ও বৈষ্ণব সংগীত এবং এর দর্শন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি টি এম আহমেদ কায়সার।

সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মেধাবী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখক শাগুফতা শারমিন তানিয়া বলেন, রাধারমণ সোসাইটি এই সব উৎসবগুলোর মধ্য দিয়ে আসলে আধুনিক শশব্যস্ত ও সংকট-সংকুল মানুষকে এক আধ্যাত্মিক নিরাময়ের পথ দেখাতে চায়।

পূর্ব লন্ডনের বিখ্যাত আর্ট ভেন্যু রিচমিক্সে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের সমাপনী পর্ব।  স্থানীয় বাঙালি দর্শকদের উপস্থিতিতে বিখ্যাত সংগীত শিল্পী মহামায়া শীল পরিবেশন করেন ভক্তি-বিনীত সূচনা কীর্তন। জয়দীপ শীল ও ইয়ামিন চৌধুরীর যন্ত্র সহযোগিতায় একে একে লালন, করিম, বিজয় সরকার, গোবিন্দ দাস রচিত কীর্তন ভজন ও বাউল সংগীত পরিবেশন করেন অমল পোদ্দার,কণ্ঠশিল্পী শায়ন গুপ্ত ও বাউল এম হোসেইন। গানের ফাঁকে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলি ও বাউল সাহিত্য থেকে আবৃত্তি করেন জাহাঙ্গীর রানা। এর ইংরেজি অনুবাদ পাঠ করেন শ্রীমা গুপ্ত।

এরপর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে মঞ্চে আসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোক ব্যান্ড লন্ডন ডিসি। পাপস দাসের অক্টোপ্যাড, ওমি ইসলাম ও নাগিফ সালভার গিটার, বিকাশের ড্রাম, আমিত দের কিবোর্ড সহযোগিতায় বাউল ও বৈষ্ণব গানের মন মাতানো ফিউশন পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন লাবণী বড়ুয়া, শরিফ আহমেদ, আমিত দে এবং রাধারমণ সোসাইটি। বিভিন্ন পর্বের সংগীত নিয়ে ভূমিকা ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎসবের অন্যতম আয়োজক কবি টি এম আহমেদ কায়সার।

সংগীত পরিবেশন করছে শিল্পী বাউল এম হোসেইনউৎসবে উপস্থিত দর্শক নাতালি মাথিউস বলেন, এ এক অদ্ভুত সংগীত! আমাদের জন্য এক নতুন মহাদেশ আবিষ্কারের মতোই ঘটনা। এক বিস্ময়কর ভালোবাসা আর মানবতার বাণী ছড়িয়ে আছে এর পরতে পরতে। একটা খুব সুন্দর সন্ধ্যা কাটল আজ।

 

কবি টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, আমরা খুব খুশি যে, এত অবাঙালি দর্শকেরা ভালোবেসে সংগীতের  অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং আদ্যোপান্ত শুনেছেন। রাধারমণ সোসাইটি বাংলার এই ঐশ্বর্যময় লোক সংগীতকে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মেই নিয়ে যেতে চায়। তিনি ১২, ১৩ ও ১৪ আগস্ট যুক্তরাজ্যের লিডসে অনুষ্ঠিতব্য রাধারমণ লোক উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানান।