বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি: ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন কিম

202

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ৩১ মার্চ:  বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন মূল হোতা ব্যবসায়ী কিম ওয়ং আজ বৃহস্পতিবার দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলে (এএমএলসি) ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট শুনানিতে হাজির হয়ে তিনি ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। খবর র‍্যাপলারের।

এএমএলসি কার্যালয়ে টাকা দেওয়ার সময় ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ও দ্বিতীয় সচিব প্রবাস লামারং উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে কিম ওয়ং দাবি করেছিলেন, সোলেয়া ক্যাসিনো রিসোর্টস হোটেলের হিসাবে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার আছে। তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অর্থ ফেরত দিতে চান।

তবে শুনানিতে কিম এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন দুই সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ করেন কিম ওয়ং। তাঁরা হলেন গাও সু হুয়া ও দিং ঝিজে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাচার হওয়া টাকা ক্যাসিনোতে ওই দুজন নিয়ে এসেছিলেন।

 

ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও মহাব্যবস্থাপক কিম। হংকংভিত্তিক কোম্পানিটি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ২১.৫৭৫ মিলিয়ন ডলার বা এক বিলিয়ন পেসো ওই কোম্পানির ক্যাসিনোতে গেছে। এর মধ্যে কিম ৪৫০ মিলিয়ন পেসো গাও সু হুয়াকে ঋণ পরিশোধে দিয়েছেন। আর ৫৫০ মিলিয়ন পেসো চলে গেছে ক্যাসিনোর টেবিলে।

এদিকে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার শাখার বরখাস্ত হওয়া জ্যেষ্ঠ কাস্টমার রিলেশনস কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেলা তোরেস ও জুপিটার মাকাতি শাখার ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আজ মামলা করেছেন চীনা ব্যবসায়ী উইলিয়াম সো গো। উইলিয়াম সো গো অভিযোগ করেন, তাঁর সই জালিয়াতি করে ওই দুজন ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন।

চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইন থেকে পাচারে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ মার্চ মায়া ও তাঁর সহকারী অ্যাঞ্জেলা তোরেসকে বরখাস্ত করে রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করা হয়। এর মধ্যে ফিলিপাইনে যায় আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। বাকিটা যায় শ্রীলঙ্কায়।