গরীবের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা যায়!!!

831

 

হামিদ মোহাম্মদ

গরীবের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা যায়। সোহাগী জাহান তনু গরীবের মেয়ে। তাই তাকে দূর্বৃত্তরা ধর্ষণ করে মেরে লাশ ফেলে দেয়  রাস্তার পাশে ব্রীজের কাছে। এই নির্মমতা অসহ্য টেকবে যে  কোনো মানুষের। সংবাদটি আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে,নাড়িয়ে দিয়েছে আমার বিবেক ও অন্তরাত্মাকে।

আমি কবিতা ও গল্প লিখি। প্রথমে মনে করেছিলাম একটি প্রতিবাদী কবিতা লিখবো। পরে গল্প লেখার বাসনা ছিলো। কিন্তু আমার কলম স্তব্ধ। কিছুই লিখতে আর ইচ্ছে হচ্ছে না। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা ঘটনা ঘটেছে সবগুলোই গরীবের মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো ঘটনাই অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

বড় বড় লেখক ও সাংবাদিকরা সম্প্রতি তনু নামক এই  মেধাবী,পরিশ্রমী সাহসী সমাজ পরিবর্তনে কাজ করা নাট্যকর্মী প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘটনা নিয়ে লিখছেন, প্রতিবাদ,আক্ষেপ, আপসোস করে বেদনামাখা কথা বলছেন, সমগ্র দেশ উত্তাল হয়ে উঠছে প্রতিবাদেÑ এই অবস্থায় আমি কোন ছার কবিতা লিখে মনের দু:খ  মেটাবো?  এতে কি কবিতা বেরুবে মগজ,মস্তিষ্ক থেকে? আমার মস্তিষ্ক থেকে মগজ নামক তুলতুলে পদার্থ লাভা হয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে সময়ের অপেক্ষামাত্র। একেবারেই সাদামাটা কথা, আমি আর আমি নই। আমিও পুরুষ। আমার মতো আরেকজন পুরুষ বা একাধিক পুরুষ কাপুরুষ হয়েছে বা হচ্ছে,মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের মাটিতে। রক্ত আর সম্ভ্রম দিয়ে কেনা বাংলাদেশের এ কি হাল, এ কি চেহারা!

প্রথমেই বলছিলামÑগরীবের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা যায়। আমি এবিষয়টি নিয়ে অনেক ভেবে দেখেছিÑ অর্থনৈতিক বৈষম্যই মূল কারণ। আর এই অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি  হওয়ার পেছনে অনৈতিকভাবে উপার্জন,লুটপাট। জনগণের  সম্পদ লুট করে নৈতিকতার ধার না-ধারা থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠা। এ পর্যন্ত যতগুলো ঘটনা ঘটেছে প্রায় সবগুলোই সামাজিক এই বৈষম্য স্তরেই ঘটেছে।

যে বা যারা ধর্ষক কেউই কোনো শক্তিবাজ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়। ঘটনা ঘটাচ্ছে তার অনৈতিকভাবে উপার্জিত টাকার জোর থেকে। কেননা, সে জানেÑ ঘটনা ঘটানোর পর তার টাকার জোর আছে। টাকা দিয়ে যে কোনো বিপদকে অতিক্রম করা যাবে। ওপরের মানুষদেরে,ক্ষমতাবানদের কেনা যাবেÑ তার মনোবল এখানে,শক্তি এটাই। এই শক্তি তো কোনো আদতে শক্তি নয়। তাসের ঘর এটি,এই দর্প বা দম্ভ।

এই তাসের ঘর ভাঙতেই হবে। সমাজের প্রতিবাদকারী সকল স্তরের মানুষই এটা জানেন,বুঝেনÑ তবে নড়ছেন কেন? ভাঙছেন না কেন এই তাসের ঘর! কোথায় বাধা? বাধা এস্টাবলিসমেন্ট(!)ক্ষমতা!

আমরা জানিÑআসলে ক্ষমতা কিছুই না। ক্ষমতা কোনো প্রাচীর নয়, কোনো বাধা নয়, কোনো শক্তি নয়।ক্ষমতা একটি ভঙুর দম্ভের নাম।

সবাই জানেন,এই দম্ভকে উপড়ে ফেলতে  একটি ভিত কাঁপানো ডাক দরকার। সাহসী উদ্যোগ,অবিনাশী একরোখা তেজ দরকার।  এই ডাকটা দেবেন কে? বিড়ালের গলার ঘন্টা বাধবেন কে?

আজ যখন এই প্রতিবাদী লেখা লিখছি,কবিতা লিখে মনের  মাধুরি মিশিয়ে স্তবক নির্মাণ থেকে বিরত, আজ যখন বাংলাদেশ তনু হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠছে এইদিনটি তেমনি অমর একটি দিন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদ, রুখে দাঁড়ানো,অধিকার ছিনিয়ে আনার ২৬ মার্চ। প্রতিরোধের দিন,মুক্তির জন্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিন।

আমরা এতোই অরক্ষিত হয়ে পড়েছি, আমদের রিজার্ভ চুরি করে আমাদেরই আমনতদার   চেনা তস্কর। দেশের ভেতরের চক্রের পর এখন বিদেশীদের অংশীদার বানিয়ে বিদেশীদের ওপর দোষ চাপিয়ে তাদের ঘাড়ে ভর করে পগার পার।  জুয়ার দানে চলে আমাদের টাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি। সমানতালে এদিকে ব্যাংকের টাকাও নানা ফন্দিফিকির করে লুট করা  হয়। রাজনীতি ও রাজনীতিকদের এই লুণ্ঠিত  টাকা দিয়ে  কেনা হয়। দেশ জাতি জিম্মি হতে বা জিম্মি করতে কতোক্ষণ মশায়? সেই জায়গায় গরীবের মেয়েকে ধর্ষণের পর  হত্যা করে নর্দমায় ফেলে দিতে কুণ্ঠিত হবে  কেন? এসব খুব তুচ্ছ ঘটনা বা নগন্য বিষয়। এসবে নীতি নৈতিকতা   নিয়ে ভাবার কী আছে? এদের ধারণা বা বিশ্বাস-ধুর ফালা ওসব চেঁচামেচি একটু আধটু হবেই।

আমি দৃঢ়ভাবে, সর্বশক্তি দিয়ে চিতকার দিয়ে বলতে চাই-যে শালারা এই ফালা কয়-এই শালাদের ধর। একাত্তরে যেভাবে ধরতে পারা হয়েছিলো পাকহানাদারদের- সেভাবে।