বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময়: আন্তঃযোগাযোগে ‘নতুন সূচনা’

72

২৩ মার্চ, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ; একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারত পেল ১০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনাকে অভিহিত করলেন সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ত্রিপুরা-কু‌মিল্লা আন্তঃ‌দেশীয় গ্রি‌ড এবং ব্যান্ডউইথ রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভিডিও কনফারেন্সের ঢাকা প্রান্তে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের আরেকটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো।”

“আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আন্তঃযোগাযোগের সম্প্রসারণ। শুধু বস্তুগত সংযোগই নয়, আমরা দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল সংযোগ, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, চিন্তা-চেতনার যোগাযোগসহ সকল ধরনের সংযোগ স্থাপন করতে চাই।”

বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময়কে একটি ‘মাইলফলক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, আমদানি করা বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। আর বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ পাওয়ার ফলে ত্রিপুরা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি পাবে; ওই এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বন্ধন সুদৃঢ় হবে।

দিল্লির প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নরেন্দ্র মোদী এ ঘটনাকে অভিহিত করেন এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে।

“দুনিয়ায় এমন মুহূর্ত কমই আসে যখন দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও একজন মুখ্যমন্ত্রী মিলে আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে কোনো কিছুর উদ্বোধন করলেন। এ দিক থেকে এটি খুবই মহত্বপূর্ণ দিন।”

আগরতলা থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তখনকার ভারত সরকার ও জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে মোদী বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানজির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অটুট ছিলো।… আজও আমরা আপনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে চলছি। আমরা দুই দেশ মিলে বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করছি।”

বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময়ের এই দিনকে ‘নতুন শক্তির বিকাশের দিন’ অভিহিত করেন তিনি।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে ভারত আরও বিদ্যুৎ দেবে; আর বাংলাদেশ দেবে আরও ব্যান্ডউইথ।

এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ ৪০০ কিলো ভোল্ট লাইনের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়।

ত্রিপুরার পালটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কুমিল্লার আন্তঃদেশীয় গ্রিড হয়ে ওই লাইন দিয়েই ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে।

এই আমদানিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে প্রায় সাড়ে ছয় টাকা। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

ত্রিপুরা থেকে ১৬ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎএলেও মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি শুরু হলো।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তে ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ পাবে ভারতের ত্রিপুরা। পরে চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইথের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

গতবছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের (বিএসএনএল) সঙ্গে  ব্যান্ডউইথ রপ্তানির এই চুক্তি করে বিএসসিসিএল। এরপর গত ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলক ট্রান্সমিশন শুরু হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ বছরে ৯.৬ কোটি টাকা আয় করবে।

ভিডিও কনফারেন্সের সময় গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম; মশিউর রহমান; তৌফিক-ই-ইলাহী ও গওহর রিজভী; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম; ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম; বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু; তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক; পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।