ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা: ২০ মার্চের মধ্যে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ

90

ঢাকা,১৫ মার্চ: ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার ডেভিড ক্যামেরনকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই অনুরোধ করেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে ২০ মার্চের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রস্তাবিত চারটি ব্রিটিশ বেসরকারি সংস্থার যেকোনো একটিকে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক গত রোববার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে দেওয়া এক চিঠিতে এই পরামর্শ দেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও একই পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল।

জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০ মার্চের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করতে চাই। এ জন্য ওই দিন ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে তা অনুমোদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ব্রিটিশ দুটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির আলাদাভাবে মঙ্গলবার (আজ) ও কাল বুধবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন ফ্লাইটকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য গতকাল রাতে একমত হয়েছে। এই সব পদক্ষেপের মধ্যে আছে বাড়তি জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ। এখন যুক্তরাজ্যের তালিকায় থাকা ব্রিটিশ বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটিকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য যে চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম সুপারিশ করেছে, সেগুলো হলো গ্রুপ ফোরএস, রেডলাইন, রেসট্রাটা ও ওয়েস্টমিনিস্টার গ্রুপ পিএলসি। এরই মধ্যে গ্রুপ ফোরএসের প্রতিনিধি সরকারকে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো বিশেষায়িত কাজে তাঁদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই। পরে সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠির জবাব: সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পাঠানো হয়। এতে বিমান চলাচল ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বিমান চলাচল ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা যে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার, তাও নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাজ্য ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করে যাওয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন। তিনি বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য ডেভিড ক্যামেরনকে অনুরোধ জানান।

এবার সচিব বদল: এদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে খোরশেদ আলম চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এস এম গোলাম ফারুক। এর আগের দিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে রদবদল করা হয়।